PF-নিয়ে ঝুলে থাকা মামলায় বড় স্বস্তি! EPFO-এর ‘বিশ্বাস ২০২৬’ স্কিমে মিলবে কী সুবিধা?

দীর্ঘদিন ধরে পিএফ (PF) সংক্রান্ত বিবাদ ও জরিমানার বোঝা নিয়ে যারা চিন্তিত ছিলেন, তাঁদের জন্য সুখবর দিল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)। গত ২৯ জুন, ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে নতুন বিরোধ নিষ্পত্তি প্রকল্প—‘বিশ্বাস ২০২৬’ (Vishwas 2026)। ছয় মাসের এই বিশেষ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো কোম্পানি বা নিয়োগকর্তাদের পিএফ সংক্রান্ত আইনি জট দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
কী এই ‘বিশ্বাস ২০২৬’ প্রকল্প? অনেক সময় বিভিন্ন কারণে নিয়োগকর্তারা কর্মীদের পিএফ সময়মতো জমা দিতে পারেন না, যার ফলে তাঁদের ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা বা পেনাল্টি ধার্য করে EPFO। ‘বিশ্বাস ২০২৬’ প্রকল্পের আওতায়, যোগ্য নিয়োগকর্তারা সাধারণ জরিমানার চেয়ে অনেক কম অর্থ জমা দিয়েই তাদের অমীমাংসিত মামলাগুলো মিটিয়ে ফেলতে পারবেন।
কীভাবে উপকৃত হবেন? সরাসরি নিয়োগকর্তাদের জন্য এই প্রকল্প তৈরি হলেও, আখেরে লাভবান হবেন কর্মীরাই। দীর্ঘদিনের আটকে থাকা পিএফ বিরোধ দ্রুত মিটে গেলে কর্মীদের পিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা জমার পথ সুগম হবে। এর ফলে মামলার আইনি জটিলতায় যে তহবিল আটকে ছিল, তা মুক্ত হবে।
সুবিধা পাওয়ার প্রধান শর্তাবলী:
নিয়োগকর্তাকে প্রথমে ধারা 7Q-এর অধীনে প্রদেয় ১০০% সুদ পরিশোধ করতে হবে।
প্রকল্পে আবেদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে ফেলতে হবে।
একটি লিখিত ঘোষণাপত্র দিতে হবে যে, এই নিষ্পত্তির পর কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে আর কোনো আপিল করা হবে না।
কোন কোন মামলা এর আওতায় পড়বে?
যে মামলাগুলো বর্তমানে আদালত বা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
যে ক্ষেত্রে জরিমানার আদেশ হয়েছে কিন্তু টাকা এখনো পুরোপুরি আদায় হয়নি।
যে ক্ষেত্রে এখনো কোনো নোটিস আসেনি, কিন্তু পিএফ জমা দিতে বিলম্ব হয়েছে।
ব্যতিক্রম: উল্লেখ্য, সব মামলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবে না। জালিয়াতি, আত্মসাৎ বা ইচ্ছাকৃতভাবে নথিপত্র বিকৃত করার ঘটনা ধরা পড়লে সেই মামলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। এছাড়া, যেসব মামলায় ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ জরিমানা আদায় হয়ে গেছে, সেগুলোও এই স্কিমের আওতাভুক্ত হবে না।
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই কমিয়ে পিএফ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতি আনবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।