বিশ্বমঞ্চে এবার বাংলার ‘টয় ট্রেন’! ইউনেস্কোর বৈঠকে ভারতের মুখ হয়ে পাড়ি দিচ্ছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে

পাহাড়ের বুক চিরে কুঝিকঝিক শব্দে ছুটে চলা সেই চিরচেনা টয় ট্রেন। পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা অগণিত নস্টালজিয়া আর রোমান্টিকতার আধার ‘দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে’ (DHR) এবার পাড়ি দিচ্ছে বিশ্বমঞ্চে। দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে আয়োজিত ইউনেস্কোর মর্যাদাপূর্ণ ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ম্যানেজার্স ফোরাম’-এ ভারতের হয়ে একক প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছে এই হেরিটেজ রেলওয়ে। আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা আটদিনের এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ২১টি দেশ। তবে ডিএইচআর-এর কাছে এবারের সফরটি অত্যন্ত বিশেষ, কারণ প্রথমবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে তারা।

ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ এই ঐতিহাসিক যাত্রাকে ঘিরে অত্যন্ত আশাবাদী। ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, এই বৈঠকটি মূলত জীবন্ত ঐতিহ্যের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের ওপর আলোকপাত করবে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে টয় ট্রেনের মায়াবী যাত্রা এবং দার্জিলিংয়ের নিজস্ব সংস্কৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন কীভাবে পর্যটকদের মুগ্ধ করে রাখে, তার বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হবে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে। কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এর ফলে বিশ্বের দরবারে দার্জিলিংয়ের এই ‘লিভিং হেরিটেজ’ আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে, যা আগামী দিনে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

তবে শুধু নিজেদের সাফল্য প্রচার করাই নয়, এই সফর থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার পাঠ নিতেও উন্মুখ ভারতীয় রেল। ইউনেস্কোর মূল বৈঠকে আলোচ্য বিষয় হবে কীভাবে ঐতিহ্যের মূল কাঠামো ঠিক রেখে তাতে আধুনিকতার ছোঁয়া দেওয়া সম্ভব। প্রাচীন বাষ্পীয় ইঞ্জিন (স্টিম লোকোমোটিভ)-এর সংস্কার থেকে শুরু করে ধস মোকাবিলায় ডিএইচআর-এর যুদ্ধকালীন তৎপরতা—সবই এখন আন্তর্জাতিক মানের। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত এই রেলপথের পরিকাঠামো উন্নয়নে সাম্প্রতিক সময়ে এক নীরব বিপ্লব ঘটেছে।

৬০০ সিরিজের শতবর্ষ প্রাচীন বাষ্পীয় ইঞ্জিনগুলিকে দেশীয় প্রযুক্তিতে ফের ট্র্যাকে নামানো ডিএইচআরের বড় সাফল্য। সেইসঙ্গে নিয়মিত জয় রাইডের পাশাপাশি ‘উইকএন্ড স্পেশাল’, ‘জঙ্গল টি সাফারি’ ও ভিস্তাডোম কোচের মতো পরিষেবাগুলো টয় ট্রেনকে আধুনিক পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে বসিয়েছে। ঘুম, সুকনা ও তিনধারিয়ার মতো ঐতিহাসিক স্টেশনগুলোকে ইতিহাসের নস্টালজিয়া বজায় রেখে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। সব মিলিয়ে, শত বাধা পেরিয়ে আধুনিকতার হাত ধরে দার্জিলিং টয় ট্রেন এখন এক অনন্য উচ্চতায়। বুসানের মাটিতে ভারতের এই সাফল্যের জয়গাথা প্রতিধ্বনিত হতে চলেছে, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় রেলের গৌরবকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে।