সোনার দামে বড় পতন! এখনই কিনবেন নাকি আরও কমবে? মুখ খুললেন বিশেষজ্ঞরা

চলতি বছরের শুরুতে সোনার দামে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই স্তিমিত। একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এখন কিছুটা নিম্নমুখী। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং সোনা ক্রেতাদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—সোনার দাম কি আরও কমবে, নাকি বিনিয়োগের জন্য এটাই সঠিক সময়?
সোনার দামে কেন এই পতন? ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৫৯৪.৮২ ডলারের সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তবে সেই সময় থেকে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। মূলত মুনাফা বুকিং (profit booking), মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার সংক্রান্ত বাজারের প্রত্যাশায় বড় পরিবর্তনের কারণে সোনার দামে প্রায় ২০ শতাংশ সংশোধন বা পতন হয়েছে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪,১০০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মত ও পূর্বাভাস বড় বড় বিনিয়োগকারী সংস্থা ও বাজারের বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শেষ হয়ে যায়নি, বরং এটি একটি সাময়িক বিরতি মাত্র। বিশ্লেষকদের অধিকাংশের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময়টা সোনার দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে।
তবে ২০২৭ সাল নিয়ে বিনিয়োগ সংস্থাগুলি এখনও বেশ আশাবাদী। বিশ্ব অর্থনীতির মোড় পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে সোনা আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই যারা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বর্তমানের এই ‘সংশোধন’ বা দামের পতনকে একটি ভালো সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
উপসংহার: সংক্ষেপে বলতে গেলে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সোনার দামের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্থির হলেও দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গিতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এখনও উজ্জ্বল। তবে যেকোনো বড় বিনিয়োগের আগে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি।