ত্বকের উজ্জ্বলতা কি ভাতের মাড়ে? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন এই নতুন ট্রেন্ড নিয়ে?

সোশ্যাল মিডিয়া ও আধুনিক রূপচর্চার হাত ধরে বর্তমানে একটি বিশেষ ট্রেন্ড ভাইরাল হয়েছে—ভাতের মাড় বা চাল ধোয়া জল পান করা। কোরিয়ান স্কিনকেয়ারের রহস্য হিসেবে পরিচিত এই পদ্ধতিটি এখন অনেকেরই নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই পদ্ধতি কি সত্যিই বিজ্ঞানসম্মত, নাকি শুধুই গুজব? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কৈলাশ দীপক হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডার্মাটোলজিস্ট ডঃ অর্জু পাহওয়া

ভাতের মাড়ে কী কী পুষ্টিগুণ থাকে? ডঃ পাহওয়ার মতে, চালের জলে এমন কিছু যৌগ থাকে যা ঐতিহাসিকভাবেই ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে:

  • অ্যামিনো অ্যাসিড: যা ত্বকের কোশ গঠনে সাহায্য করে।

  • ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে এবং অকাল বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে।

  • প্রদাহরোধী উপাদান (Anti-inflammatory properties): এটি ত্বকের জ্বালাভাব ও র‍্যাশ কমাতে সহায়তা করে।

ত্বক কি ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত ধোয়া জল শরীরকে আর্দ্র রাখতে বা হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত জল ও পুষ্টি শরীরে প্রবেশ করলে ত্বকের স্বাভাবিক লাবণ্য ফিরে পাওয়া সহজ হয়। তবে, এটি পান করা সকলের জন্য সমানভাবে নিরাপদ কি না, তা নিয়ে কিছু জরুরি সতর্কতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞের সাবধানবাণী:

  • পরিচ্ছন্নতা: আপনি যদি চাল ধোয়া জল পান করেন, তবে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে চালটি খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে। চালে অনেক সময় কীটনাশক বা ধুলোবালি থাকতে পারে, যা পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

  • প্রক্রিয়া: চাল ভালোভাবে ধুয়ে জলটি সংগ্রহ করা উচিত। পচা বা দূষিত চালের জল কোনোভাবেই পান করা উচিত নয়।

  • সুষম খাদ্য: শুধুমাত্র ভাতের মাড় পান করলেই যে ত্বক জাদুর মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, তা কিন্তু নয়। উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পর্যাপ্ত জল পান করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।