১৫ জুলাই থেকে সস্তা বিলাসবহুল গাড়ি ও স্কচ হুইস্কি! কার্যকর হচ্ছে ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি

ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (CETA) আগামীকাল, ১৫ জুলাই, ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে গাড়ি, মদ্যপানীয় ও আইটি খাতের ওপর।
গাড়ির বাজারে বড় বদল: অটোমোবাইল খাতে এই চুক্তিটি ঐতিহাসিক। ব্রিটেন থেকে আমদানিকৃত সম্পূর্ণ তৈরি (CBU) যাত্রীবাহী গাড়ি ও ট্রাকের ওপর বর্তমানে থাকা ১১০% আমদানি শুল্ক পর্যায়ক্রমে কমিয়ে ১০%-এ নামিয়ে আনা হবে। পেট্রোল ও ডিজেল চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে এই সুবিধা অবিলম্বে কার্যকর হলেও, ইলেকট্রিক (EV), হাইব্রিড এবং হাইড্রোজেন গাড়ির ওপর এই ছাড় মিলবে ষষ্ঠ বছর থেকে। বিনিময়ে ভারতও ব্রিটিশ বাজারে নিজেদের ইলেকট্রিক গাড়ি রপ্তানির বাড়তি সুযোগ পাবে।
সস্তা হবে বিদেশি মদ: স্কচ হুইস্কি থেকে শুরু করে ভদকা, জিন ও রাম—এই ধরনের প্রিমিয়াম বিদেশি পানীয়র দাম ভারতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে চলেছে। প্রথম বছরেই আমদানি শুল্ক ১৫০% থেকে কমিয়ে ১১০% করা হচ্ছে। ১০ বছরের মধ্যে এই শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে ৭৫%-এ নামানো হবে। বিশেষ করে স্কচ হুইস্কির ক্ষেত্রে এই কর কমে ৪০%-এ এসে ঠেকবে। তবে, এই সুবিধা মূলত উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য সুদিন: ভারতের শ্রম-নিবিড় শিল্পগুলো এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে চলেছে। পোশাক, জুতো, বস্ত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং হস্তশিল্পের মতো পণ্যগুলো, যেগুলোর ওপর আগে ৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ছিল, তা এখন সম্পূর্ণ শুল্কমুক্তভাবে ব্রিটিশ বাজারে রপ্তানি করা যাবে।
আইটি খাতের জন্য বড় সাফল্য: ভারতের আইটি কোম্পানিগুলোর জন্য সুখবর বয়ে এনেছে ‘ডাবল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন’। এর ফলে যুক্তরাজ্যে কর্মরত ভারতীয় কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা চাঁদা (Social Security Contribution) দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে কোম্পানিগুলোকে ৫ বছরের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ব্রিটিশ সরকারের ৪০,০০০-এর বেশি বড় প্রজেক্টে এখন ভারতীয় কোম্পানিগুলো সরাসরি দরপত্র জমা দিতে পারবে।
নিরাপত্তা ও ভারসাম্য: দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও সংবেদনশীল পণ্য (যেমন—আপেল, আখরোট, স্মার্টফোন ও ইস্পাত) রক্ষার বিষয়টি নিয়েও এই চুক্তিতে নজর রাখা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই চুক্তি কেবল আমদানিকৃত পণ্যের দামই কমাবে না, বরং ব্রিটিশ বাজারে ভারতীয় পণ্যের ও মেধাসম্পদের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।