চিনি কম খেলেই কি যথেষ্ট? ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ফলের অভাব, বলছে নতুন গবেষণা

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কথা উঠলেই আমরা প্রথমেই চিনি বা ভাজাভুজি কমানোর ওপর জোর দিই। কিন্তু সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে—ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার পেছনে চিনির মতোই বড় ভূমিকা পালন করছে শরীরে ‘ফলের অভাব’। ভারতের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য: গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্রমবর্ধমান ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান খাদ্যতালিকাগত কারণ হলো প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল না খাওয়া। তথ্য বলছে, ২০২২ সালে ভারতে প্রায় ৩.৯ লক্ষ নতুন টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীর হদিশ পাওয়ার পেছনে অপর্যাপ্ত ফল গ্রহণের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণার দাবি, ভারতে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এটাই এখন সবচেয়ে বড় খাদ্যজনিত ঝুঁকির কারণ।

ফল কেন জরুরি? পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফলের মধ্যে থাকা ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে। এছাড়া ফল শরীরে প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ানোর মূল হোতা।

ফলের রস বনাম গোটা ফল: অনেকে মনে করেন ফলে প্রাকৃতিক চিনি আছে, তাই ডায়াবেটিস হতে পারে ভেবে তাঁরা ফল এড়িয়ে চলেন। আবার অনেকে গোটা ফলের বদলে প্যাকেটজাত ফলের রস খান। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন:

  • গোটা ফল: পরিমিত পরিমাণে গোটা ফল খাওয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।

  • ফলের রস: ফলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়া সবসময়ই বেশি শ্রেয়। ফলের রসে সেই উপকারিতা থাকে না, যা গোটা ফলে পাওয়া যায়।

পরামর্শ: ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে গবেষকরা ও পুষ্টিবিদরা কয়েকটি বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন:

  • প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে গোটা ফল রাখুন।

  • চিনিযুক্ত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

  • নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যভ্যাসের ওপর গুরুত্ব দিন।

ভারতের মতো দেশে, যেখানে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, সেখানে রোজকার ডায়েটে ফলের অন্তর্ভুক্তি যে কত বড় প্রতিরোধক হতে পারে, এই গবেষণা তা আবারও মনে করিয়ে দিল। তবে যেকোনো খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তনের আগে নিজের শরীরের অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রে