আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি! জুন মাসে ৯.৮৭ শতাংশে পাইকারি মূল্যসূচক, আমজনতার পকেটে কি বড় টান?

দেশে মুদ্রাস্ফীতির পারদ যেন থামছেই না! খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে জুন মাসে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি (WPI) পৌঁছে গেল ৯.৮৭ শতাংশে। মে মাসের ৯.৬৮ শতাংশের তুলনায় এই বৃদ্ধি অর্থনীতির উদ্বেগজনক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। টানা অষ্টম মাস ধরে পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর অবরোধের ফলে অপরিশোধিত তেলের আমদানিতে বিঘ্ন ঘটছে। ভারত যেহেতু এই রুট দিয়েই তেলের সিংহভাগ আমদানি করে, তাই খনিজ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬-এ খনিজ তেল, খাদ্যদ্রব্য, মৌলিক ধাতু এবং রাসায়নিক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিই এই মুদ্রাস্ফীতির প্রধান চালিকাশক্তি। ২০২২-২৩ ভিত্তি বছরের নতুন ডব্লিউপিআই সিরিজ অনুযায়ী এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট বলছে, জুন মাসে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে পাইকারি মূল্যস্ফীতি ২৭.৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খাদ্যদ্রব্য খাতে মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৩.৬০ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৫.৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে উৎপাদিত পণ্য খাতে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি ৭.৪৮ শতাংশে স্থির আছে। ডব্লিউপিআই সূচক মে মাসের ১০৯.৯ থেকে বেড়ে জুন মাসে ১১০.২-এ ঠেকেছে। নতুন ডব্লিউপিআই সিরিজে পণ্যের সংখ্যা ৬৯৭ থেকে বাড়িয়ে ৯৫৭ করা হয়েছে, যেখানে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে।
শুধু পাইকারি নয়, খুচরা মুদ্রাস্ফীতির (CPI) চিত্রটিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। জুন মাসে তা ১৭ মাসের সর্বোচ্চ স্তর ৪.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৩.৯৩ শতাংশ। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক মুদ্রানীতি নির্ধারণে প্রধানত সিপিআই-কে গুরুত্ব দেয়। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশ (২ শতাংশ ব্যবধানসহ) বজায় রাখার সরকারি নির্দেশ থাকলেও, বিশ্ব বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর প্রভাব পড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই অর্থবর্ষের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.১ শতাংশ করেছে। সব মিলিয়ে, মূল্যবৃদ্ধির এই চক্র থেকে রেহাই পেতে সরকারি পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে এখন দেশবাসী।