৩৫ পেরোনোর পর মা হতে চাইছেন? গর্ভধারণের আগে যে ৫টি পরীক্ষা না করলেই নয়!

বর্তমান সময়ে ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত কারণে অনেকেই দেরিতে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে গর্ভধারণকে বলা হয় ‘অ্যাডভান্সড ম্যাটারনাল এজ’ (Advanced Maternal Age)। এই বয়সে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে কিছু শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকি থাকে। সঠিক সচেতনতা এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমিয়ে একটি সুস্থ ও সুন্দর মাতৃত্ব উপভোগ করা সম্ভব। ৩৫-এর পর গর্ভধারণের আগে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি, তার একটি বিস্তারিত গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো।

১. ফার্টিলিটি এবং ওভারিয়ান রিজার্ভ পরীক্ষা:
বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। আপনার ওভারিয়ান রিজার্ভ বা ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর বর্তমান ভান্ডার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে AMH (Anti-Müllerian Hormone) এবং FSH (Follicle-Stimulating Hormone)-এর মতো হরমোন টেস্ট করানো প্রয়োজন। এছাড়া আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে ‘অ্যান্ট্রাল ফলিকল কাউন্ট’ (AFC) পরীক্ষা করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়।

২. থাইরয়েড ও হরমোনের স্বাস্থ্য:
থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ওভিউলেশন বা ডিম্বাণু নিঃসরণে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা গর্ভধারণে জটিলতা তৈরি করে। সঠিক চিকিৎসা না করালে মিসক্যারেজের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনই গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই গর্ভধারণের আগে TSH, T3, T4-সহ থাইরয়েড প্রোফাইল টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক, বিশেষ করে যদি আপনার পিরিয়ড অনিয়মিত হয়।

৩. সুগার এবং ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ:
৩৫-এর পর গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। HbA1c এবং ফাস্টিং গ্লুকোজ টেস্টের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি যাচাই করা উচিত। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস (gestational diabetes) ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে সময়ের আগে ডেলিভারি বা শিশুর বিকাশে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪. পুষ্টির ঘাটতি নির্ণয়:
শরীর গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত কি না, তা বুঝতে ফেরিটিন, হিমোগ্লোবিন, ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আয়রন ও ভিটামিনের অভাবে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। সঠিক ডায়েট ও সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।

৫. রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ ও ইনফেকশন স্ক্রিনিং:
জরায়ুতে ফাইব্রয়েড (fibroids), সিস্ট (cysts) বা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো সমস্যাগুলো প্রেগন্যান্সিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পেলভিক আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে এগুলো আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়। এছাড়া রুবেলা, ভ্যারিসেলা এবং যৌনবাহিত রোগ (HIV, হেপাটাইটিস বি/সি ও সিফিলিস) সংক্রান্ত স্ক্রিনিং করানো জরুরি, যাতে গর্ভস্থ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

মনে রাখবেন, ৩৫-এর পর গর্ভধারণ মানেই জটিলতা নয়, বরং প্রয়োজন একটু বাড়তি সতর্কতা এবং পরিকল্পিত জীবনযাত্রা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই টেস্টগুলো করিয়ে নিলে এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তন করলে মাতৃত্বের আনন্দ অনেক বেশি সুরক্ষিত হতে পারে।