রেলের ১০০০ হেক্টরের বেশি জমি বেআইনি দখলে! ৪২টি নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম আড়াল করা যায় এই জায়গায়

ভারতীয় রেলের সম্পত্তির সুরক্ষা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। সাম্প্রতিক এক তথ্যের অধিকার আইন (RTI)-এর জবাবে রেল বোর্ডের দেওয়া চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সারা দেশে রেলের প্রায় ১০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি বেআইনিভাবে জবরদখল হয়ে রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই জমি দখলের হার প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রেল কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে এই অবৈধ দখলের চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে বেদখল জমির পরিমাণ ছিল ৮১০.৩১ হেক্টর। ২০২১-২২ সালে তা কিছুটা কমে ৭৮২.৮১ হেক্টরে নামলেও, পরের বছর থেকেই গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয়। ২০২২-২৩ সালে তা ৮০০ হেক্টরের গণ্ডি ছাড়ায় এবং ২০২৩-২৪ সালে এক ধাক্কায় প্রায় ২৬৮ হেক্টর জমি নতুন করে বেদখল হওয়ায় মোট পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ১০৭৮.৫৫ হেক্টরে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও জমি দখলের পরিমাণ এখনো ১০৬৮.৫৪ হেক্টরে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
রেলের দেওয়া মোট ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর জমির তুলনায় ১০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি দশমিক ২১ শতাংশ মাত্র। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এই ক্ষুদ্র ভগ্নাংশটি বাস্তবের নিরিখে কতটা বিশাল, তা জানলে চমকে যেতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুজরাতের মোতেরায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম ‘নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম’ প্রায় ২৫.৫ হেক্টর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। রেলের বেদখল হয়ে থাকা এই জমিতে অনায়াসেই ৪২টি আস্ত মোদী স্টেডিয়াম নির্মাণ করা সম্ভব।
এই বিপুল পরিমাণ জমি উদ্ধারের ক্ষেত্রে রেলের প্রশাসনিক ও আইনি লড়াই এখন এক অন্তহীন চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, অন্যদিকে সামাজিক সমীকরণ—সব মিলিয়ে জমি দখলের এই গ্রাফ নামানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সংসদে পেশ করা সরকারি তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে রেল। অর্থাৎ, দখলদারের হার যে গতিতে বাড়ছে, জমি উদ্ধারের গতি তার তুলনায় কচ্ছপ-গতিতে চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলের জমি বেদখল হওয়ার নেপথ্যে আইনি জটিলতা এবং লোকালয় গড়ে ওঠার বিষয়টি প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে রেলের জমি নিয়ে টানাপড়েন নতুন নয়। সিঙ্গুরের মতো এলাকায় আইনি লড়াই এবং স্থানীয় হকারদের উচ্ছেদ ঘিরে ওঠা বিতর্কের জেরেই মূলত এই জমি উদ্ধার প্রক্রিয়া বারবার থমকে যাচ্ছে। রেল বোর্ড এখন এই হারিয়ে যাওয়া জমি ফিরে পেতে নতুন কোনো নীতিমালা গ্রহণ করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।