পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ, জারি জামিন অযোগ্য পরোয়ানা!

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ঘটনার পর ভারতের মাটিতে লস্কর-ই-তৈবা প্রধান হাফিজ সইদের ওপর আইনি ফাঁস আরও কঠোর করা হলো। জম্মুর বিশেষ এনআইএ (NIA) আদালত সম্প্রতি এই কুখ্যাত জঙ্গির বিরুদ্ধে একটি জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা (NBW) জারি করেছে। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত জানিয়েছে যে, হাফিজ সইদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিনের পলাতক হাফিজ সইদকে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পলাতক আসামি’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এনআইএ।

পাকিস্তান থেকে হাফিজ সইদকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ জেনেই ভারতীয় আইন সংস্থাগুলি এখন নতুন কৌশলে এগোচ্ছে। বর্তমান আইনি ব্যবস্থা অনুযায়ী, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেই তার বিচার পরিচালনার (Trial in absentia) প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পহেলগাঁও হামলার মতো স্পর্শকাতর মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে হাফিজ সইদের উপস্থিতি এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অপরিহার্য। এনআইএ-র দাখিল করা সম্পূরক অভিযোগপত্রে এই ৭৬ বছর বয়সী জঙ্গিকে পহেলগাঁও হামলার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ ময়দানে যে নারকীয় জঙ্গি হামলা হয়েছিল, তা ছিল রীতিমতো পরিকল্পিত। পাকিস্তানের মাটিতে বসে ছক কষা এই হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে ২৫ জনই ছিলেন হিন্দু পর্যটক। তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, এটি নিছক সন্ত্রাস নয়, বরং সুপরিকল্পিত ধর্মভিত্তিক হত্যার ঘটনা। এনআইএ আদালতে জানিয়েছে যে, সরগোধার বাসিন্দা হাফিজ সইদ ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেফতার এড়িয়ে পাকিস্তানে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA)-এর কঠোরতম ধারাগুলি প্রয়োগ করা হয়েছে।

হাফিজ সইদের নাম ২০০৮ সালের মুম্বই জঙ্গি হামলার সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যে হামলায় ১৬৬ জন নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। লস্কর-ই-তৈবা এবং তার প্রক্সি সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর প্রধান হিসেবে হাফিজ সইদ যে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় কত বড় হুমকি, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এনআইএ এখন আদালতের নির্দেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে আইনি চাপের বৃত্ত আরও প্রসারিত করতে চলেছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে লুকিয়ে থাকা এই জঙ্গির বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারির ফলে ভবিষ্যতে তার বিদেশ ভ্রমণের পথও আরও সংকুচিত হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। ভারত এখন বিশ্বমঞ্চে হাফিজ সইদকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করতে বদ্ধপরিকর।