তৃণমূল ভাঙলেন সুদীপ-কাকলি! ২০ সাংসদ নিয়ে এনডিএ-র নতুন জোট এনসিপিআই

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হারের পর থেকেই শুরু হয়েছিল ভাঙন। সেই ভাঙন এবার চূড়ান্ত রূপ নিল লোকসভায়। দলত্যাগ করে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ। স্পিকার ওম বিড়লার ছাড়পত্র পেয়ে তাঁরা এখন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) নামক একটি নতুন রাজনৈতিক শিবিরের ছাতার তলায় নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছেন। লোকসভায় এই নবগঠিত দলের নেতা হয়েছেন অভিজ্ঞ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবারই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সূত্রের খবর, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দলনেতা, কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুখ্য সচেতক এবং শতাব্দী রায়কে ডেপুটি লিডার হিসেবে নিয়োগ করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। এই ২০ জন সাংসদের জন্য সংসদের অন্দরে পৃথক একটি কক্ষও বরাদ্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় রদবদল হয়েছিল। অভিষেকের জায়গা থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেরানো হয়েছিল মুখ্য সচেতক পদে। এই ঘটনায় বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই অবশেষে তৃণমূলের মূলস্রোত থেকে বেরিয়ে এলেন এই হেভিওয়েট নেতারা।

আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনকেই পাখির চোখ করছে এই নতুন ব্লক। জানা গেছে, ১৯ জুলাই স্পিকার ওম বিড়লা স্বয়ং এই ২০ সাংসদকে তলব করেছেন। সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে সংসদের অন্দরে তাঁদের বসার স্থান এবং সংসদীয় ভূমিকা। ১৯ জুলাই সংসদের সর্বদলীয় বৈঠকও রয়েছে। যদিও ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ লোকসভার রেকর্ডে এখনও পুরোপুরি নথিভুক্ত নয়, তবুও স্পিকার আশ্বাস দিয়েছেন যে এই নতুন ব্লকটি সর্বদলীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপিআই বর্তমানে একটি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। এই আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা এড়াতেই তৃণমূলের বিদ্রোহীরা এই দলের সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজেদের আলাদা সংসদীয় ব্লক তৈরি করার কৌশল নিয়েছেন। তবে এই দলবদলকে ‘বিজেপি যোগ’ বলতে নারাজ বিদ্রোহীরা। কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট করেছেন, “আমরা এনডিএ জোটের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে কাজ করব, কিন্তু লোকসভায় বিরোধী দলের মর্যাদাতেই থাকব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে ২১শে জুলাইয়ের প্রাক্কালে এই বিদ্রোহীরা এখন দিল্লির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করলেন। মণীশ গুপ্তের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে দলীয় অভ্যন্তরীণ রাজনীতি—সবকিছু নিয়েই যে এই শিবির বেশ ক্ষুব্ধ, তা তাঁদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে স্পষ্ট। সংসদের বাদল অধিবেশনে এই ২০ জন সাংসদের অবস্থান রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।