রণক্ষেত্র হরমুজ প্রণালী, ট্যাঙ্কারে হামলায় মৃত ১ ভারতীয়, পাল্টা হুঁশিয়ারি UAE-এর

হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (UAE) প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ওমানের জলসীমার কাছে তাদের দুটি জাতীয় ট্যাঙ্কার ‘মোম্বাসা’ এবং ‘আল বাহিয়া’-র ওপর দুটি ইরানি ক্রুজ মিসাইল দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় এক ভারতীয় ক্রু সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণ শিপিং লেন দিয়ে যাওয়ার সময় এই অতর্কিত হামলা হয়। মিসাইলের আঘাতে দুটি ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যদিও দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

কড়া নিন্দা UAE-এর
এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। ইউএই বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালীকে ‘অর্থনৈতিক চাপ’ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা জলদস্যুতার সামিল। নিহত ভারতীয় ক্রু সদস্যের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মন্ত্রক বলেছে, এই উস্কানিমূলক হামলা বিশ্বজুড়ে শক্তি সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি। ইউএই প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তারা জবাব দেওয়ার সমস্ত অধিকার রাখে। তারা ইরানকে অবিলম্বে সমস্ত শত্রুতা বন্ধ করে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বাড়ছে আমেরিকা-ইরান সংঘাত
এই হামলার নেপথ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা তীব্র উত্তজনাকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিলে আমেরিকা ইরানের ১৪০টি সামরিক ও কৌশলগত স্থানে পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতি আরও জটিল করে আমেরিকা ঘোষণা করেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইরানের বন্দরগুলিতে যাতায়াতকারী সামুদ্রিক পথে তারা পুনরায় কঠোর অবরোধ শুরু করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই নৌ-অবরোধ শুধুমাত্র ইরানের বিরুদ্ধেই কার্যকর হবে। তেহরানের সঙ্গে যারা ব্যবসা করবে, তাদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হবে। হরমুজ প্রণালীর ওপর এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনীতি এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে চলেছে।