অস্ট্রেলিয়ার বাজারে জয়জয়কার ভারতের! ১ জানুয়ারি থেকে সমস্ত পণ্যে শূন্য শুল্ক, রপ্তানিতে বড় মোড়

২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্কে। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে সমস্ত ভারতীয় পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক বা ইমপোর্ট ডিউটি পুরোপুরি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে দেশের সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে ভারতের রপ্তানি প্রতিযোগিতায় নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। ‘রুবিক্স ডেটা সায়েন্সেস’-এর সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এই সম্ভাবনার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত? ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (ECTA) চুক্তির অধীনেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতদিন ধাপে ধাপে বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর কাজ চলছিল, কিন্তু এবার সমস্ত ধরনের ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে ‘জিরো-ডিউটি’ বা শূন্য শুল্কের সুবিধা কার্যকর হতে চলেছে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ।

বাণিজ্য ঘাটতি ও বর্তমান পরিস্থিতি: দুই দেশের বাণিজ্যের চিত্রটি গত কয়েক বছরে বেশ কিছুটা বদলেছে। ২০২৩ অর্থবর্ষে যে বাণিজ্য ঘাটতি ১২.১ বিলিয়ন ডলার ছিল, ২০২৬ সালে তা কমে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন—এই ঘাটতি কমার প্রধান কারণ রপ্তানি বৃদ্ধি নয়, বরং অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতের আমদানি কমে যাওয়া।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • আমদানি: ২০২৩ অর্থবর্ষে অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতের ১৯ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ছিল, যা ২০২৬ সালে কমে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

  • রপ্তানি: একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের রপ্তানি ৭ বিলিয়ন ডলার থেকে সামান্য বেড়ে ৭.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

কোন কোন পণ্যের ওপর প্রভাব? বর্তমানে ভারতের রপ্তানি তালিকার শীর্ষে রয়েছে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফার্মাসিউটিক্যালস, সোনার গয়না, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি এবং যাত্রীবাহী গাড়ির রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতের কয়লা আমদানির পরিমাণ ২০২৩ সালের ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ৪৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মত: শুল্কমুক্ত সুবিধা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার ফলে ভারতীয় পণ্যের দামের ক্ষেত্রে যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি হবে, তা রপ্তানি বাণিজ্যের ধীরগতি কাটিয়ে উঠতে বড় ভূমিকা নেবে। এখন দেখার, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত অস্ট্রেলিয়ার বাজারে কতটা দ্রুত নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে পারে।