নাগাল্যান্ডে ভয়াবহ হামলা! আইইডি বিস্ফোরণে শহিদ অসম রাইফেলসের এক জওয়ান, এলাকায় আতঙ্ক

নাগাল্যান্ডের চুমুকেডিমা জেলার সুখোভিতে সোমবার এক মর্মান্তিক জঙ্গি হামলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অসম রাইফেলসের একটি কনভয় লক্ষ্য করে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চালানো এই দূরনিয়ন্ত্রিত আইইডি (IED) বিস্ফোরণে এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন এবং আরও চারজন জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কোহিমা ও ইম্ফলের জনসংযোগ আধিকারিক (Defence PRO)। ১৩ জুলাই ২০২৬, সোমবার এক টুইট বার্তার মাধ্যমে এই দুঃখজনক খবরটি জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সুখোভিতে অবস্থিত একটি ট্রেনিং সেন্টারের অদূরে। কনভয়টি যখন নিয়মমাফিক সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তীব্র বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। শক্তিশালী আইইডির আঘাতে কনভয়ের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই এক জওয়ান প্রাণ হারান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাড়তি বাহিনী। আহত চার জওয়ানকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি নিকটবর্তী সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

শহিদ জওয়ানের প্রতি দেশবাসী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মকর্তারা গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। এই কাপুরুষোচিত হামলার দায়ভার এখনও পর্যন্ত কোনো জঙ্গি সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে নাগাল্যান্ডের এই অঞ্চলটিতে দীর্ঘকাল ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির তৎপরতা রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো সুসংগঠিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে। হামলার পরপরই পুরো এলাকাটি ভারতীয় সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলসের যৌথ টিম ঘিরে ফেলে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ড্রোন ও প্রযুক্তি।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চালানো এই হামলা সেনাবাহিনী কোনোভাবেই বরদাস্ত করবে না। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সেনার উচ্চপর্যায়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। নাগাল্যান্ড পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই পুনরায় নাশকতা চালানো না যায়। আহত জওয়ানদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় ব্যস্ত গোটা দেশ। তবে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই অশান্ত অঞ্চলে এই হামলা কি নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ওয়াকিবহাল মহল।