নিখোঁজের তিনদিন পর ব্যবসায়ীর পচাগলা দেহ উদ্ধার! খুন করা হয়েছে? চাঞ্চল্য হাড়োয়ায়

নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর ঝালমুড়ি বিক্রেতার পচাগলা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার ব্রাহ্মণচক এলাকায়। মৃত ব্যবসায়ীর নাম কালীপদ মণ্ডল (৫০), বাড়ি হাড়োয়ার ধুতুরপোতা এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘক্ষণ ধরে দেহ ঝুলে থাকায় তা পচতে শুরু করেছিল এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়।
ঘটনার বিবরণ: গত ১০ জুলাই থেকে কালীপদ মণ্ডল নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। সোমবার সকালে ব্রাহ্মণচক এলাকায় একটি নির্জন স্থানে ডুমুর গাছে ওই ব্যবসায়ীর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে হাড়োয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরিবারের অভিযোগ ও রহস্য: মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত খুন। মৃতের ভাইপো কার্তিক মণ্ডলের দাবি, গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ এক ব্যক্তি বাইকে করে কাকার বাড়িতে আসে এবং তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরিবারের সদস্যদের আরও অভিযোগ, তাঁরা স্থানীয় বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছেন। ফুটেজে দেখা গেছে, কাকাকে বাইকের পিছনে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এরপরের কোনো ফুটেজে তাঁকে বা সেই বাইকটিকে আর দেখা যায়নি। এই সূত্র ধরেই তাঁদের সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে এবং পরে দেহটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত: পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত খুনের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে হাড়োয়া থানার পুলিশ।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।