তৃণমূলের দখল কার? ঋতব্রতদের আর সময় না দেওয়ার আর্জি মমতার, কমিশনে কড়া চিঠি!

দলের নাম, প্রতীক এবং সম্পত্তির অধিকার নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই এখন তুঙ্গে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন ‘আদি তৃণমূল’, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী ‘নব তৃণমূল’—উভয়কেই নিজেদের দাবির স্বপক্ষে যুক্তি ও নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর এই সূত্রেই এবার ঋতব্রতদের বাড়তি সময় না দেওয়ার আর্জি জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী চাইছে মমতা শিবির? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে নির্বাচন কমিশনকে একটি ১৪ পাতার চিঠি পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, ঋতব্রতপন্থীরা নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য প্রথমে পাঁচ দিন সময় চেয়েছিল, যার মেয়াদ গত শুক্রবারই শেষ হয়েছে। এরপর নতুন করে আরও ১৫ দিন সময় চেয়েছে ঋতব্রত শিবির। এই প্রেক্ষিতেই সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, ঋতব্রতদের আর কোনো অতিরিক্ত সময় যেন দেওয়া না হয়। তার পরিবর্তে মমতা শিবিরের জমা দেওয়া তথ্যই যেন কমিশন গ্রহণ করে।
কী বললেন মহুয়া মৈত্র? সোমবার এই ইস্যুতে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও সাগরিকা ঘোষ। মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, “কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আমরা আমাদের বক্তব্য জমা দিয়েছি। কিন্তু ঋতব্রতপন্থীরা বারবার সময় চেয়ে প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। ১০ জুলাই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তাদের কোনো সদুত্তর মেলেনি।”
মহুয়া আরও বলেন, কমিশন যেন নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া নথিগুলোকেই চুড়ান্ত বলে গণ্য করে।
রাজনৈতিক গুরুত্ব: দলের দখল ও প্রতীকের লড়াইয়ে এখন নির্বাচন কমিশন কী ভূমিকা নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। একদিকে মহুয়া মৈত্রদের এই কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে ঋতব্রতদের সময় চাওয়া—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরের এই আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।