মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পৌঁছে যান স্বপ্নের গন্তব্যে, বিহারে চালু হলো হেলিকপ্টার পরিষেবা, জেনে নিন টিকিটের দাম

বিহারের পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত হলো এক নতুন ও চমকপ্রদ অধ্যায়। পর্যটকদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার এবার পাটনা থেকে রাজগির, বাল্মীকিনগর এবং কৈমুর পর্যন্ত হেলিকপ্টার পরিষেবা চালু করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই নতুন উদ্যোগের ফলে এখন কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া যাবে মাত্র কয়েক মিনিটে। বিহারের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ধর্মীয় মহিমা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বাদ নিতে আগ্রহী দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য এটি এক অনন্য সুযোগ।

আগামী ১৮ই জুলাই থেকে এই বিশেষ বিমান পরিষেবা চালু হতে চলেছে। আপাতত প্রতি শনি ও রবিবার এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। সড়কপথে যেসব দর্শনীয় স্থানে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগত, আকাশপথে যাতায়াত সহজ হওয়ায় পর্যটকরা এখন অনেক কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।

রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে রাজগির, বাল্মীকিনগর এবং কৈমুর। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে রাজগিরের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যদিকে, বাল্মীকিনগরের টাইগার রিজার্ভের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কৈমুরের পাহাড় ও জলপ্রপাত পর্যটকদের বরাবরই আকর্ষণ করে। উন্নত বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে এই অঞ্চলে পর্যটকদের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

ভাড়ার বিষয়ে রাজ্য সরকার অত্যন্ত জনবান্ধব পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি টিকিটের ওপর সরকার ১৫,৪২২ টাকা পর্যন্ত বিশাল ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমান ভাড়ার তালিকা অনুযায়ী, পাটনা থেকে রাজগির পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৪,০০০ টাকা, বাল্মীকিনগর পর্যন্ত ৫,০০০ টাকা এবং কৈমুর পর্যন্ত ৬,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, যারা আকাশ থেকে রাজধানী পাটনার নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য থাকছে ২,১০০ টাকার ‘জয়রাইড’ বা আনন্দ ভ্রমণের সুবিধা।

আজ, ১৩ই জুলাই থেকেই এই পরিষেবার অনলাইন বুকিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যটকরা ঘরে বসেই বিহার পর্যটন ও বিহার রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন কর্পোরেশন (BSTDC)-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট tourism.bihar.gov.in-এ গিয়ে টিকিট বুক করতে পারবেন।

এই হেলিকপ্টার পরিষেবা কেবল পর্যটন ক্ষেত্রেই নয়, বরং স্থানীয় হোটেল, পরিবহন এবং কুটির শিল্পের বিকাশেও বড় ভূমিকা রাখবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বিহারের সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিহারকে আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপকে মাইলফলক হিসেবে দেখছে রাজ্য সরকার।