প্রলোভনে পড়ে প্রাণ গেল ৭ বছরের শিশুর! শপিং মলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শিউরে উঠল দেশ

৭ বছরের এক শিশুকন্যাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গাজিয়াবাদ। এই জঘন্য অপরাধের অভিযোগে পুলিশ দুই শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তরা হলো ১৮ বছর বয়সী বিনয় কুমার এবং ২২ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন। বিহারের বাসিন্দা এই দুই শ্রমিক ঘটনাস্থল নির্মাণাধীন শপিং মলের কাজেই যুক্ত ছিল।

প্রলোভনে ঘাতক পরিচিত মুখ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিনয় কুমার স্থানীয় বস্তি এলাকার শিশুদের কাছে পরিচিত মুখ ছিল। প্রায়ই সে তাদের টফি বা চিপস দিত। গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ খেলার সময় শিশুটিকে চিপস ও ঠান্ডা পানীয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নির্মাণাধীন শপিং মলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তারা শিশুটিকে নিয়ে মলে প্রবেশ করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেরিয়ে আসে।

লৌহকপাটে ঘেরা নৃশংসতা
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। মলের তৃতীয় তলার একটি অন্ধকার ঘরে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে প্রথমে মারধর ও পরে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এরপর লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। নৃশংসতা গোপন করতে তারা শিশুটির দেহ একটি শ্যাফটের (ফাঁপা গর্ত) ভেতর দিয়ে বেসমেন্টে ফেলে দেয়। এসিপি প্রিয়শ্রী পাল জানান, মলটি একটি গোলকধাঁধার মতো। পুলিশের টর্চ লাইটের আলোয় তৃতীয় তলায় রক্তের দাগ ও ব্যবহৃত রড উদ্ধারের পরই ঘটনার ভয়াবহতা সামনে আসে।

নিরাপত্তার চরম গাফিলতি
অভিযুক্তরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে। মলে কোনো নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় অভিযুক্তরা সহজেই শিশুটিকে ভেতরে নিয়ে যেতে পেরেছিল। এমনকি মলের এক নৈশপ্রহরী শিশুটির চিৎকার শুনলেও তা গুরুত্ব না দিয়ে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, যা এই ঘটনায় নিরাপত্তার চরম গাফিলতিকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা
পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে নন্দগ্রাম থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এতে গণধর্ষণ, অপহরণ, হত্যা এবং পকসো (POCSO) আইনের কঠোর ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক দুজনকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গোটা দেশে এই ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।