তিস্তার উত্তাল রূপ! দার্জিলিং-কালিম্পং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, জারি চূড়ান্ত সতর্কতা

টানা বৃষ্টিপাতের জেরে উত্তরবঙ্গে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত রাত থেকে কালিম্পং এবং সিকিমে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা বাজার সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতে নদীর জল বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দার্জিলিং ও কালিম্পংকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের একাংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাস্তা থেকে জল না নামা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এই অবস্থায় পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ী এলাকায় নতুন করে ধস নামার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ বাংলাদেশ ও উত্তর-পূর্ব বিহারে অবস্থিত জোড়া ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবেই উত্তরবঙ্গে এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আজ দার্জিলিং থেকে মালদা পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। উপরের দিকের পাঁচ জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সেই সাথে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও বুধবার ও বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্বস্তির খবর দীর্ঘস্থায়ী নয়। শুক্রবার থেকে ফের কালিম্পং সহ পার্বত্য জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়। রাস্তাঘাট স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন করে যান চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।