“জিভে জল আনে ঝালমুড়ি!” রেকর্ডিং স্টুডিওতে মাইক্রোফোন হাতে নতুন অবতারে দিলীপ

রাজ্যের রাজনীতির ময়দানে তিনি বরাবরই তাঁর ধারালো মন্তব্যের জন্য পরিচিত। বিরোধীদের আক্রমণ থেকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু—সবক্ষেত্রেই দিলীপ ঘোষের নিজস্ব এক শৈলী রয়েছে। তবে এবার রাজনীতির মঞ্চ ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত মন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। কোনো রাজনৈতিক জনসভা নয়, এবার তাঁকে দেখা গেল রেকর্ডিং স্টুডিওতে। মাইক হাতে নিয়ে তিনি গাইলেন বাঙালির প্রিয় রাস্তার খাবার ‘ঝালমুড়ি’ নিয়ে এক মজার গান।

সোমবার সকালে নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ শেষ করে তিনি সরাসরি পৌঁছন চিনার পার্কের একটি রেকর্ডিং স্টুডিওতে। সেখানেই শিল্পী লোকেশ গিরি ও রিমাশ্রীর লেখা ও সুর করা এই বিশেষ গানটিতে কণ্ঠ দেন তিনি। গানটির কথা ও সুর এতটাই হালকা মেজাজের যে তা শুনলে যে কারো মুখে হাসি ফুটবে। ‘আম আচারে টক মিলবে, অল্প দাও হে ভাই’ কিংবা ‘জিভে জল আনে ঝালমুড়ি’—এমন সব চমৎকার উপমায় সাজানো হয়েছে গানটি। বর্তমানে বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার ফেসবুক পেজ থেকে এই গানের ভিডিওটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

ঝালমুড়ি নিয়ে এই মাতামাতি কিন্তু হঠাৎ নয়। রাজনীতির আঙিনায় ঝালমুড়ি বহু আগেই নিজের জায়গা করে নিয়েছে। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাস্তার ধারের একটি দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। সেই মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর, কৃষ্ণনগরের নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমি ঝালমুড়ি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।” সেই থেকে ঝালমুড়ি বিজেপির কাছে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এমনকি দিল্লির এনডিএ বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ঝালমুড়ি খেতে দেখা গিয়েছিল, যা সেই সময় চর্চার তুঙ্গে ছিল।

রাজনীতি আর ঝালমুড়ি এখন একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠেছে। রাজনীতির কঠিন লড়াইয়ের বাইরে দিলীপ ঘোষের এই নতুন ভূমিকা কতটা জনপ্রিয় হয়, তা নিয়ে এখন নানা জল্পনা চলছে। তবে গানটির মজাদার লিরিক্স এবং একজন হেভিওয়েট নেতার গলায় এমন ছন্দের ব্যবহার যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেবে, তা বলাই বাহুল্য। রাজনীতির উত্তাপের মাঝে ঝালমুড়ির এই সুস্বাদু স্বাদ সাধারণ মানুষ কতটা গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার পালা।