বন্ধ তৃণমূল অফিসে সরকারি নথির পাহাড়! নবদ্বীপে মিলল ১০০০ কার্ড, কার গাফিলতিতে বিপাকে বাসিন্দারা?

নদিয়ার নবদ্বীপে এক বন্ধ তৃণমূল কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি নথি উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার রাতে নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুর বসাকপাড়ার মোড় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ওই অফিস থেকে প্রায় এক হাজারেরও বেশি ডিজিটাল রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং মৎস্যজীবী কার্ড উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে চাপানউতোর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ওই তৃণমূল কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি পরিষেবা দেওয়ার জন্য একটি অস্থায়ী শিবির পরিচালনা করছিল বিজেপি। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, স্থানীয় তৃণমূলের কয়েকজন নেতা-নেত্রী তাদের ব্যবহারের জন্য কার্যালয়টির চাবি হস্তান্তর করেছিলেন। কার্যালয়টি খোলার পরই বিজেপি কর্মীরা স্তম্ভিত হয়ে যান। একটি আলমারি খোলা অবস্থায় ছিল এবং ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল হাজার হাজার সরকারি নথি। পাশাপাশি, ওই ঘর থেকে একটি কম্পিউটারও গায়েব বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপির নবদ্বীপ উত্তর মণ্ডলের সহ-সভাপতি তন্ময় কুণ্ডুর অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রগুলি দলীয় কার্যালয়ে আটকে রেখেছিল। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বহু মানুষ সরকারি পরিষেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তন্ময়বাবু জানান, নথিগুলি যাচাই করে দেখা গেছে অধিকাংশ কার্ডই স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ বিজেপি; তারা এর পেছনে বড় কোনো চক্রান্ত বা সরকারি নথির অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন। বিজেপির দাবি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

এদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বহু মানুষ ভিড় জমান ওই কার্যালয়ের সামনে, যাদের অনেকেরই অভিযোগ, তারা দীর্ঘসময় ধরে নিজের রেশন কার্ড বা ভোটার কার্ড খুঁজে পাচ্ছিলেন না। নবদ্বীপ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত নথিপত্র নিজেদের হেফাজতে নেয়। কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিএসপি শিল্পী পাল জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাজেয়াপ্ত করা নথিগুলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং কী পরিস্থিতিতে সরকারি নথি দলীয় কার্যালয়ে মজুত রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে সমস্ত বাসিন্দাদের কার্ড উদ্ধার হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।