স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন বিপ্লব! আয়ুষ্মান ভারতের বাইরে থাকা মানুষদের জন্য আসছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক বড়সড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে আরও সুনিশ্চিত করতে এবার রাজ্য সরকার চালু করতে চলেছে নতুন ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’ প্রকল্প। কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা মানুষদের জন্যই মূলত এই নজিরবিহীন উদ্যোগ। এই নতুন বিমা প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তারাও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মতোই বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY)-এর সুবিধা নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক মাপকাঠিতে থাকা পরিবার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্যই মূলত সীমাবদ্ধ। এর ফলে গ্রাম ও শহরের বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধার বাইরে থেকে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসব বঞ্চিত মানুষদের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী এই নয়া স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “রাজ্যের কোনো নাগরিকই যাতে টাকার অভাবে বা চিকিৎসার অভাবে অসহায় না হয়ে পড়েন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা।” রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই প্রকল্পে পরিবারপিছু বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতাল নয়, বরং তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও এই বিমা কার্ড দেখিয়ে চিকিৎসা করানো যাবে।
এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন, আবেদন প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার নির্দিষ্ট শর্তাবলি নিয়ে কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তবে নবান্ন সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই বিস্তারিত নিয়মাবলি ও গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, উপভোক্তাদের নথিভুক্তিকরণ বা এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হবে, কার্ড পাওয়ার পদ্ধতি কী হবে এবং রাজ্যের কোন কোন বেসরকারি হাসপাতাল এই প্রকল্পের তালিকায় থাকবে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।
সরকারি সূত্রের ব্যাখ্যা, যাঁরা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, তাঁরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পেরই সুবিধা পাবেন। আর যাঁরা সেই তালিকার বাইরে রয়েছেন, তাঁদের জন্যই চালু হবে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’ প্রকল্প। মূলত দুটি প্রকল্পের মেলবন্ধনে রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার চাদরে মুড়ে ফেলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের খরচ ও হয়রানি কমানোর লক্ষে এটি রাজ্য সরকারের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।