ফুলের তোড়া দেখেই থামলেন যুবক, তারপরই গুলির শব্দে কেঁপে উঠল বিনপুর! রহস্যময় হামলায় জখম ২

ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর থানার বেতকুঁদরি এলাকায় গভীর রাতে গুলির ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার রাত তখন ১০টা বেজে ৫ মিনিট। কাজ শেষে ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়েন বালি খাদানে কর্মরত দুই যুবক। এই ঘটনায় আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আহত দুই যুবকের নাম শুভদীপ ঘোষ ও অমিত মণ্ডল। তাঁদের বাড়ি বীরভূম জেলার দুবরাজপুর থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায়। তাঁরা বেতকুঁদরির ‘কে কে মিনারেলস’ নামক একটি বালি খাদানে কাজ করেন। আহতদের বয়ান অনুযায়ী, রাত ১০টা ৫ মিনিট নাগাদ কাজ সেরে ফেরার পথে রাস্তার ধারে একটি ফুলের তোড়া পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। কৌতূহলবশত তাঁরা সেখানে থামেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাইকে করে আসা তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁদের পথ আটকায় এবং পরিচয় ও পেশা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।

আহত শুভদীপ ঘোষ জানান, গুলির আঘাতে তাঁর পিঠের ডানদিক ও বাঁ-পা গুরুতর জখম হয়েছে। অন্যদিকে, অমিত মণ্ডলের বাঁ-পা লক্ষ্য করে চালানো গুলি হাড় ভেঙে দিয়েছে। ঘটনার পরই আততায়ী বাইকে চড়ে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করান।

তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলা। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ফায়ারিং’ বা অনিচ্ছাকৃত গুলির ঘটনা হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ এবং দুষ্কৃতীদের পরিচয় খুঁজে বের করতে জোর তল্লাশি চলছে।” যদিও পুলিশ একে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ফায়ারিং’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, রাতের অন্ধকারে ফুলের তোড়া দেখিয়ে যুবকদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুলি চালানোর ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বালি খাদানের সঙ্গে জড়িত কোনো পুরোনো শত্রুতা বা তোলাবাজিকে কেন্দ্র করে এই হামলা কি না, তা নিয়েও জোর জল্পনা চলছে। পুলিশের দাবি, শীঘ্রই দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আপাতত এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই যুবকের সুস্থতার অপেক্ষায় পরিবার ও সহকর্মীরা।