ফেসবুক থেকে ৬ হাজার টাকা আয়! সাসপেন্ড হিমাচল পুলিশের বিখ্যাত ব্যান্ডের প্রধান ইন্সপেক্টর

দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা এবং রিয়্যালিটি শো-তে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর পরেও বিপাকে হিমাচল প্রদেশ পুলিশের বিখ্যাত অর্কেস্ট্রা ব্যান্ড ‘হারমনি অফ দ্য পাইন্স’-এর প্রধান ইন্সপেক্টর বিজয় কুমার। ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উপার্জনের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ জারি করেছে পুলিশ সদর দফতর। ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি অশোকের নির্দেশে এই পদক্ষেপের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মূলত ফেসবুক পেজ থেকে আয় ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার জেরেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, ইন্সপেক্টর বিজয় কুমার সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬ হাজার টাকা আয় করছিলেন, যা সরকারি বিধি অনুযায়ী বেআইনি। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিজিপি দফতর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস (Show Cause) পাঠায়। নোটিসে জানতে চাওয়া হয়, ব্যক্তিগত মিউজিক অ্যালবাম তৈরি, প্রকাশ এবং প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নিয়েছিলেন কি না। সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় বর্তমানে পুলিশ লাইন ভরাড়ির ডিএসপি কমল কিশোরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইন্সপেক্টর বিজয় কুমার ও তাঁর ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ফেসবুক পেজে তাঁর ৫৯ হাজার এবং মূল ব্যান্ড ‘হিমাচল প্রদেশ পুলিশ অর্কেস্ট্রা’র পেজে ৮৯ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। বেসরকারি চ্যানেলের রিয়্যালিটি শো ‘হুনরবাজ’-এর ফাইনালিস্ট হিসেবে তাঁদের নাম ‘ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডস’-এও রয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে পুলিশি শৃঙ্খলার যে গলদ থেকে যাচ্ছিল, তা নজর এড়ায়নি প্রশাসনের।

এর আগে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর, তৎকালীন ডিজিপি অতুল বর্মা পুলিশি পোশাক পরে রিল ও ভিডিও তৈরির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। পুলিশি পোশাকের মর্যাদা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এই এসওপি (SOP) তৈরি করা হয়েছিল। নির্দেশ ছিল, সরকারি তথ্য বা ইউনিফর্ম পরে ব্যক্তিগত প্রচারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। কিন্তু বিজয় কুমার সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিয়মিত মিউজিক ভিডিও ও ভজন প্রকাশ করে আসছিলেন।

১৯৯৬ সালে পুলিশকর্মীদের মানসিক চাপ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে ১৭ জন সদস্যের এই ব্যান্ডটি গঠিত হয়েছিল। আজ ‘হারমনি অফ দ্য পাইন্স’ একটি ব্র্যান্ড হলেও, বিজয় কুমারের এই আচরণ ব্যান্ডের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অনেকেই এখনও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ইউনিফর্ম পরে ছবি বা ভিডিও পোস্ট করছেন, যা শৃঙ্খলার পরিপন্থী। বিজয় কুমারের এই সাসপেনশন সেইসব কর্মীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হতে পারে না। এই ঘটনা এখন হিমাচল পুলিশের অন্দরে রিল-সংস্কৃতির ওপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।