ফ্লপ শো! বাজারে এসেই কেন মুখ থুবড়ে পড়ল ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি?

ভারতে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করতে সরকার ফ্লেক্স-ফুয়েল ভেহিকেল (FFV) বা নমনীয় জ্বালানি চালিত যানবাহনের ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন। সরকারি ‘বাহন’ (Vahan) পোর্টালের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লিতে এই ধরনের প্রযুক্তিচালিত গাড়ির জনপ্রিয়তা তলানিতে। লঞ্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত দিল্লিতে মাত্র চারটি ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে।

কেন ক্রেতাদের অনাগ্রহ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির এই ব্যর্থতার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ কাজ করছে:

  • ই-২০ জ্বালানি বিতর্ক: বর্তমানে বাজারে ই-২০ জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। এই জ্বালানি ব্যবহার করলে মাইলেজ কমে যাওয়া বা ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার মতো গুজবে কান দিচ্ছেন অনেকেই। যদিও এর কোনো জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও এটি বিক্রিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

  • সীমিত মডেল ও পরিকাঠামো: বর্তমানে বাজারে ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির বিকল্প খুবই সীমিত। এছাড়া ই-৮৫ (E85) জ্বালানি সরবরাহকারী পাম্পের সংখ্যা নগণ্য, যা ক্রেতাদের মধ্যে ভীতি তৈরি করছে।

  • ইলেকট্রিক ভেহিকেলের (EV) দাপট: দিল্লির বর্তমান নীতি পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি-র দিকে ঝুঁকে। পরিবেশ সচেতন ক্রেতারা তাই ফ্লেক্স-ফুয়েলের বদলে ইভি-কেই বেছে নিচ্ছেন। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশন (ICCT)-এর মতে, ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া বায়ুদূষণ ঘটায়, যা ইভির ক্ষেত্রে নেই।

  • সার্ভিস নেটওয়ার্কের অভাব: নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণ বা সার্ভিস সেন্টার নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে, যা ক্রেতাদের দ্বিধাগ্রস্ত করছে।

বিশ্বের উদাহরণ ও সরকারি ভূমিকা ব্রাজিলের মতো দেশে এথানল-মিশ্রিত জ্বালানির দাম পেট্রোলের তুলনায় অনেক কম, যার ফলে সেখানে ফ্লেক্স-ফুয়েল জনপ্রিয়। ভারতের ক্ষেত্রে দামের সুবিধা সেভাবে স্পষ্ট নয়। পরিবহন বিশেষজ্ঞ অনিল ছিকারার মতে, “জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সরকারকে আগে সরকারি দপ্তরে এই গাড়ি ব্যবহার শুরু করতে হবে। মানুষের অভিজ্ঞতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই যেকোনো নতুন প্রযুক্তির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”

বর্তমানে এই প্রযুক্তি একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাজার টিকে থাকতে হলে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ পরিকাঠামো উন্নত করা এবং ই-২০ জ্বালানি নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।