রেস্টুরেন্টের আড়ালে কালো টাকা সাদা! নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে চার্জশিট ইডি-র

পশ্চিমবঙ্গের আলোচিত পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু, আইএএস আধিকারিক জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে কলকাতার বিশেষ আদালতে একটি সप्लीমেন্টারি চার্জশিট বা ‘প্রসিকিউশন কমপ্লেন্ট’ দাখিল করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।
কিভাবে কাজ করত এই দুর্নীতিচক্র? ইডি-র অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন সুজিত বসু ৩৪০ জন প্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন, যার মধ্যে ২৮৪ জন চাকরি পেয়ে যান। এই নিয়োগের বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ টাকা তোলা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, এই অবৈধ অর্থকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করা হতো। সুজিত বসুর ‘চাইনিজ কুইজিন’ নামক রেস্টুরেন্টের তথাকথিত ‘নগদ বিক্রি’ (cash sales) হিসেবে এই টাকা দেখানো হতো। এমনকি কোভিডের লকডাউনের সময় যখন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা মন্দা ছিল, তখনও সেখানে বিপুল পরিমাণ টাকা নগদে জমা পড়েছিল বলে ইডির দাবি।
সম্পত্তির পাহাড় ও অন্যান্য অভিযোগ ইডি-র মতে, এই দুর্নীতির টাকা শেল কোম্পানি ও বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ঘোরানো হতো এবং পরবর্তীতে তা দিয়ে হোটেল, ব্যাঙ্কেট ব্যবসা এবং নানা ধরনের সম্পত্তি কেনা হতো। এছাড়া, ঘুষ হিসেবে সুজিত বসু বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটও পেয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আইএএস আধিকারিক জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছে ইডি। স্থানীয় সংস্থাগুলির অধিকর্তা থাকাকালীন কোনো বৈধ নথি ছাড়াই তিনি সাউথ দমদম পৌরসভায় ২৯টি অতিরিক্ত নিয়োগকে ‘বিশেষ ক্ষেত্র’ হিসেবে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
বর্তমানে মামলার অবস্থা উল্লেখ্য, গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করে ইডি। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। অয়ন শীলসহ এই মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আগেই চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতির এই জাল যে কতটা বিস্তৃত, তদন্তকারীরা এখন সেই শিকড় সন্ধানেই মরিয়া।