৪০ বছর পর নিউজিল্যান্ডে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী! অকল্যান্ডে ‘মোদী ম্যাজিকে’ আপ্লুত কিউই-ভারতীয়রা!

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রবাসী ভারতীয়দের এক জনাকীর্ণ অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে গভীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জয়গান গাইলেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে আসায় স্বভাবতই প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। অকল্যান্ডের অডিটোরিয়ামে প্রধানমন্ত্রী মোদীর পদার্পণ মাত্রই ‘মোদী-মোদী’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এই অনুষ্ঠানে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন এবং সে দেশের সরকার ও লেবার পার্টির সদস্যদের উপস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই উপস্থিতি ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের গভীরতাকে এবং কিউই-ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাফল্যের প্রমাণ দেয়। মোদীর কথায়, “ভারত সবসময় শিখতে আগ্রহী। আমাদের কাছে দেশের জনসংখ্যা নয়, বরং জনকল্যাণের ভূমিকাই আসল। আমরা নিউজিল্যান্ড থেকেও অনেক কিছু শিখেছি।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, নিউজিল্যান্ডই বিশ্বের প্রথম দেশ যারা নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করেছিল। আজ নিউজিল্যান্ডের সমাজ ও অর্থনীতিতে নারীদের যে অবদান, তা অনুপ্রেরণাদায়ক। ঠিক একইভাবে, ভারতও আজ ‘নারীর নেতৃত্বে উন্নয়ন’ মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যেখানেই থাকুন না কেন, সেই দেশের প্রগতিতে আপনারা যেমন অবদান রাখছেন, তেমনি নিজেদের জন্মভূমির প্রতিও আপনাদের ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা অটুট রয়েছে। এটিই আমাদের সংস্কৃতির মূল ভিত্তি।” ভারত ও নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পেস সেক্টর বা মহাকাশ গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, তা ভারত ও নিউজিল্যান্ড—উভয় দেশের ব্যবসার জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে এবং ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথাও মোদীর ভাষণে উঠে আসে। তিনি বলেন, “ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে অন্যতম বড় মিল হলো নিজেদের মূল সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো এবং তা সংরক্ষণ করার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা করেন যে, “কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিউজিল্যান্ড আসতে ৪০ বছর লেগেছে, কিন্তু ভবিষ্যতে আর এমনটা হবে না—এটিই মোদীর গ্যারান্টি”, তখন পুরো অডিটোরিয়াম গর্জে ওঠে করতালিতে। নিউজিল্যান্ডের ‘মিনি ইন্ডিয়া’য় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।