‘সাবারিয়াকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন’, সহপাঠীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মৃতার পরিবারের!

উজবেকিস্তানে চিকিৎসাশাস্ত্র পড়তে যাওয়া ২২ বছর বয়সী এক ভারতীয় মেডিকেল ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। কেরলের বাসিন্দা সাবারিয়া বসন্তের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার খুনের অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের দাবি, সাবারিয়াকে কেবল হত্যাই করা হয়নি, বরং ঘটনার আগে তাকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য তীব্র চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
নিহত ছাত্রীর বাবা-মা বুধবার হরিপাদ থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তদন্ত শুরু করেছে। কায়ামকুলামের ডিওয়াইএসপি বিনুকুমার টি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, ঘটনাটি ভারতের বাইরে ঘটলেও কেরল পুলিশের আইনিভাবে মামলা নথিভুক্ত করার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, “যদিও অপরাধটি উজবেকিস্তানে ঘটেছে, তবুও আমাদের এখানে মামলা দায়ের করার আইনি সংস্থান রয়েছে। উজবেকিস্তানের পুলিশ যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তবে আমরা মামলাটি বন্ধ করতে পারি। কিন্তু যদি সেখানে কোনো যথাযথ আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে আমরা নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে যাব।”
তদন্তের স্বার্থে কেরল সরকার ও পুলিশ ভারতীয় দূতাবাস এবং বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে উজবেকিস্তান কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করবে। জানা গেছে, অভিযুক্ত সাদারুল আনামকে ইতিমধ্যে উজবেকিস্তানে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে সাবারিয়ার পরিবার কেবল উজবেকিস্তানের তদন্তের ওপর ভরসা করতে নারাজ। তাদের দাবি, পুলিশ যেন স্বাধীনভাবে এই ঘটনার তদন্ত করে এবং অভিযুক্তকে ভারতে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করে।
উজবেকিস্তানে সাবারিয়া ও সাদারুল একই হোস্টেলে থাকতেন। পরিবারের অভিযোগ, একটি তর্ক-বিতর্কের সময় সাদারুল সাবারিয়ার মাথায় আঘাত করে। নিহত ছাত্রীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে চিকিৎসকদের ধারণা, তাকে দীর্ঘ সময় ধরে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। সাবারিয়ার এক আত্মীয় জানান, “হত্যার আগে সাবারিয়াকে সাদারুল নৃশংসভাবে মারধর করেছিল। আমরা এখানে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছি, যাতে অভিযুক্ত কোনোভাবে রেহাই না পায়।”
পরিবারের অভিযোগের মূলে রয়েছে ধর্ম পরিবর্তনের বিতর্কিত প্রসঙ্গ। তাদের দাবি, হোস্টেলের কয়েকজন শিক্ষার্থী সাবারিয়াকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিল, যার ফলশ্রুতিতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনাটি দেশের বাইরে ঘটলেও এর রেশ পৌঁছেছে কেরলের রাজনীতি ও সাধারণ মহলে। অভিযুক্তের পরিবার এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেরল পুলিশের এই উদ্যোগ মৃতার পরিবারকে সামান্য স্বস্তি দিলেও, তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনড়। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক জটিলতা কাটিয়ে কেরল পুলিশ এই হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে কতটা সক্ষম হয়।