নীল-সাদা যুগের অবসান, স্কুল ইউনিফর্মে এল বড় বদল, ফিরছে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঐতিহ্য!

রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে এতদিনের চলে আসা নীল-সাদা ইউনিফর্ম পরার বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘ দুই বছর পর স্কুল ইউনিফর্মের রঙ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিক্ষা মহলে খুশির জোয়ার বইছে। এর ফলে এখন থেকে প্রতিটি স্কুল তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, নিজস্ব পরিচিতি ও ভৌগোলিক পরিবেশের কথা মাথায় রেখে নিজেদের ইউনিফর্মের রঙ ও নকশা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবে।
২০২২ সালে রাজ্য সরকারের জারি করা এক নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য নীল-সাদা পোশাক বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সরকারের সেই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বহু শতাব্দী প্রাচীন স্কুল, যাদের নিজস্ব ঐতিহাসিক ইউনিফর্ম ছিল, তারাও বাধ্য হয়ে পোশাকের রঙ পরিবর্তন করতে হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিটি বিদ্যালয়ের যে স্বতন্ত্র পরিচয় ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ছিল, তা ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছিল। সমস্ত সরকারি স্কুলের ইউনিফর্ম একই রকম হয়ে যাওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলির আলাদা সত্তা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল।
রাজ্য সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তে স্কুলগুলির প্রশাসনিক স্বাধীনতা যেমন বাড়বে, তেমনই ইউনিফর্ম বণ্টন সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলিও মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাঁকুড়ার একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত সিংহ মহাপাত্র জানান, আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের মাপ নিয়ে পোশাক বিতরণের কাজ করত, যা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। কিন্তু পরবর্তীতে বাইরের নির্দিষ্ট কেন্দ্রে গিয়ে মাপ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় নানাবিধ জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেক ছাত্রছাত্রী নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত থাকতে না পারায় ইউনিফর্মের সাইজ বা মাপের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য দেখা দিত, যা পড়ুয়াদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
শিক্ষকদের মতে, ইউনিফর্ম কেবল পোশাক নয়, বরং এটি একটি স্কুলের পরিচায়ক। এখন স্কুল পরিচালন সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনা সাপেক্ষে তাদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফেরার সুযোগ পাবে। অভিভাবক মহলেও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, প্রতিটি স্কুলের আলাদা ইউনিফর্ম থাকলে সেই প্রতিষ্ঠানকে সহজেই চেনা যায় এবং এতে স্কুলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও আভিজাত্য বজায় থাকে। পড়ুয়ারাও এই সিদ্ধান্তে যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত। নীল-সাদা রঙের একঘেয়েমি কাটিয়ে স্কুলের নিজস্ব পুরনো ইউনিফর্ম ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনায় তারা খুশি। শিক্ষা দফতরের এই নমনীয় মনোভাবকে রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ ও শক্তিশালী করার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।