তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে পুরবোর্ড! হুগলির একাধিক পুরসভায় চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের হিড়িক

রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের আঁচ সরাসরি এসে পড়ল হুগলি জেলার পুর-প্রশাসনে। একে একে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডগুলো। বৃহস্পতিবার চাঁপদানি পুরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের পর, শুক্রবারও সেই ধারা অব্যাহত রইল। এদিন পদত্যাগ করলেন বৈদ্যবাটি, শ্রীরামপুর ও কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যানরা। যার মধ্যে বৈদ্যবাটি পুরবোর্ড পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় সেখানে দ্রুত প্রশাসক বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শুক্রবার শ্রীরামপুর মহকুমা শাসকের (SDO) দপ্তরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন বৈদ্যবাটি, শ্রীরামপুর ও কোন্নগর পুরসভার শীর্ষ নেতৃত্ব। পুরসভা সূত্রের খবর, হুগলির মোট ১২টি পুরসভার মধ্যে বর্তমানে উত্তরপাড়া ও রিষড়া বাদে অধিকাংশ পুরবোর্ডই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলররাও বর্তমানে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

বৈদ্যবাটি পুরসভার মোট ১৩ জন কাউন্সিলর এদিন ইস্তফা দেন। পদত্যাগী চেয়ারম্যান পিন্টু মাহাতো নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, “২০২২ সালের মার্চ মাসে আমরা দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই বিরোধী কাউন্সিলরদের সঙ্গে নিয়ে পরিষেবা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু গত দু’মাস ধরে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে জনসেবা ব্যাহত হচ্ছিল। মানুষের কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আশা করি নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে এই সুনাম বজায় রাখবে। আমরা বাইরে থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা ব্যক্তিগত কারণের দোহাই দিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর কথায়, “সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেই আমি চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি, কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে নয়। মানুষের কোনো সমস্যা হবে না, দ্রুত প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।” অন্যদিকে, কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “অসুস্থ অবস্থায় ক্ষমতা আঁকড়ে রাখা ঠিক নয়। নতুন সরকার প্রয়োজন মনে করলে সবরকম সাহায্য করব।”

এই গণ-পদত্যাগের জেরে হুগলির পুর-এলাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার খুব দ্রুত এই পুরসভাগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করে পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের এই পুরবোর্ডগুলো নৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় কাউন্সিলররা দলবদল বা নতুন সমীকরণের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামী কয়েকদিনে বাকি পুরসভাগুলোতেও এই পদত্যাগের হিড়িক দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।