পর্যটন শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পথে রাজ্য, আসছে নতুন হোমস্টে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি!

রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও আধুনিক, পরিকল্পিত এবং পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত ‘ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার’ (TTF)-এ রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ ঘোষণা করেন, শীঘ্রই রাজ্য সরকার নতুন ‘হোমস্টে নীতি’ এবং ‘ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি’ কার্যকর করতে চলেছে।

মন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই এই নীতিগুলির খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী এক মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানো। শঙ্কর ঘোষ বলেন, “সরকারি সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আমরা হোমস্টে মালিক, হোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর এবং সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি। সবার পরামর্শ নিয়েই চূড়ান্ত খসড়া তৈরি হবে।”

এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ‘ট্যুরিস্ট ডেটা ব্যাংক’। আইআইটি খড়গপুরের সহযোগিতায় তৈরি এই ডেটা ব্যাংকের মাধ্যমে পর্যটকদের পছন্দ এবং ভ্রমণের প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হবে। এর ফলে কোন এলাকায় নতুন পরিকাঠামো প্রয়োজন বা কোথায় বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত, তা সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। দার্জিলিংয়ের মতো জনপ্রিয় গন্তব্যগুলিতে পর্যটকদের অত্যধিক চাপ কমাতে কালিম্পং ও মিরিকের মতো বিকল্প কেন্দ্রগুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।

পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসারে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে। শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোই লক্ষ্য নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান জরুরি। এছাড়া, পর্যটনকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন নগদ ও অ-নগদ সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববাংলা মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিনদিনের এই আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা (TTF Kolkata 2026)। ১০ জুলাই শুরু হওয়া এই মেলায় ২১টি রাজ্য এবং ৬টি দেশের ৫০০-র বেশি প্রদর্শক অংশ নিয়েছেন। উত্তরাখণ্ড ও গোয়ার পর্যটনমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই মেলা পূর্ব ভারতে পর্যটন শিল্পের প্রসারে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত এই মেলা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।