‘একবার ধরলেই কিনতে হবে’! জাপানি সুপারমার্কেটের কড়া নিয়ম নিয়ে ভারতীয়দের ‘কালচার শক’

ভারতীয় বাজারে সবজি বা ফল টিপেটুপে দেখে কেনা একটি অতি সাধারণ অভ্যাস। দোকানের বিক্রেতাও অনেক সময় উৎসাহ নিয়ে বলেন, “দেখে নিন, ভালো আছে।” কিন্তু এই অভ্যাস নিয়ে আপনি যদি জাপানের কোনো সুপারমার্কেটে যান, তবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন। জাপানে একটি অলিখিত কিন্তু কঠোর নিয়ম রয়েছে—”Once you pick it, you buy it”। অর্থাৎ, কোনো পণ্য একবার হাতে তুলে নিলে তা আর শেলফে ফেরত রাখা যাবে না।

কেন এই নিয়ম? জাপানি সংস্কৃতিতে পরিচ্ছন্নতা, পারস্পরিক সম্মান এবং বিশ্বাসের মূল্য অপরিসীম। সেখানকার সুপারমার্কেটে ফল ও সবজি অত্যন্ত যত্নসহকারে আগে থেকেই গুণমান যাচাই করে সাজিয়ে রাখা হয়। ক্রেতাদের ধারণা থাকে যে, দোকানটি নিজেই পণ্যের মান নিশ্চিত করেছে। ফলে ক্রেতাদের আর সেগুলো হাতে নিয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না।

কেউ যদি বারবার ফল বা সবজি টিপে দেখেন, তবে সেটি পণ্যের ক্ষতি করতে পারে এবং অন্য ক্রেতাদের কাছে তা কম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এছাড়াও, অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ স্বাস্থ্যবিধির পরিপন্থী বলে মনে করেন জাপানিরা। অনেক ভারতীয় পর্যটক ও পড়ুয়া জাপানে গিয়ে এই ‘কালচার শক’-এর সম্মুখীন হন। এমনকি না জেনে সবজি টিপে ফেলায় স্থানীয় কর্মী বা ক্রেতাদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও মুখে পড়তে হয় তাঁদের।

জাপানের কেনাকাটার সংস্কৃতিতে আরও কিছু নিয়ম রয়েছে যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। যেমন—লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পালার অপেক্ষা করা সেখানে বাধ্যতামূলক, সুপারমার্কেটে উচ্চস্বরে কথা বলা অত্যন্ত অভদ্রতা হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া প্লাস্টিকের ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হয় এবং সন্ধ্যার পর খাবার ও ফলে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়।

জাপানের এই সংস্কৃতি থেকে শিক্ষা নেওয়া যায় যে, পারস্পরিক আস্থা এবং দায়বদ্ধতা থাকলে উন্নত মানের পরিষেবা দেওয়া ও নেওয়া কতটা সহজ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পণ্য বিক্রির আগে সঠিকভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবে অপ্রয়োজনীয় স্পর্শ ও খাদ্য অপচয়—উভয়ই কমানো সম্ভব। তাই বিদেশ ভ্রমণের আগে সেই দেশের স্থানীয় রীতি-নীতি সম্পর্কে জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন, যাতে অপ্রস্তুত পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।