দক্ষিণবঙ্গে হলুদ ও কমলা সতর্কতা, প্রবল বৃষ্টির ভ্রুকুটি, আজ কোথায় কতটা বর্ষণ?

রাজ্যজুড়ে ফের দাপট দেখাতে শুরু করেছে বর্ষা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের ওপর অবস্থান করছে একটি ঘূর্ণাবর্ত। পাশাপাশি, রাজস্থান থেকে মিজোরাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা। এই জোড়া ফলার প্রভাবে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে মৎস্যজীবীদের পরবর্তী কয়েকদিন গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া: দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে দুর্যোগের ঘনঘটা। পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া এবং বাঁকুড়ার জন্য বিশেষ ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। এই তিন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এছাড়া বীরভূম, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও হাওড়াতেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। কলকাতায় মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার ও রবিবার বৃষ্টির তীব্রতা সামান্য কমলেও, সোমবার থেকে ফের বাড়বে বর্ষণের পরিমাণ। দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই আগামী ৪-৫ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ বহাল থাকবে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া: উত্তরের জেলাগুলিতে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত এই তিন জেলার পাশাপাশি কালিম্পং ও কোচবিহারেও প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের নিচের দিকের জেলাগুলিতেও ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা রয়েছে। সোমবার থেকে উত্তরের উপরের পাঁচটি জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তিত হলেও, ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা বজায় থাকবে।
পাহাড়ি এলাকায় অতি বৃষ্টির ফলে ভূমিধসের আশঙ্কা ও নিচু এলাকায় জল জমার সম্ভাবনার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সরকারি নির্দেশিকা মেনে মৎস্যজীবীদেরও উপকূল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের এই কয়েকদিন সাবধানে যাতায়াত করতে এবং আবহাওয়া দপ্তরের নিয়মিত আপডেটের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।