সোমবার থেকেই রাজ্যে ‘গুণ্ডা দমন আইন’: হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, কড়া ব্যবস্থা অরাজকতায়!

রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে নবান্নের নজিরবিহীন পদক্ষেপ। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে পুরোদমে কার্যকর হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ‘গুণ্ডা দমন আইন’ (অ্যান্টি-হুলিগানিজম অ্যাক্ট)।
কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর: ‘আইন হাতে নিলে রেহাই নেই’ রাজ্যে অরাজকতা রুখতে কোনো আপস করতে নারাজ রাজ্য সরকার। বিধানসভায় পাশ হওয়া এই বিলে রাজ্যপালের সিলমোহর পড়ার পর মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘রেললাইন ভাঙা, ট্রেন জ্বালানো, বিডিও অফিস ভাঙচুর বা পুলিশের ওপর হামলার দিন শেষ। রাজ্যে আইন মেনে সবাইকে চলতে হবে।’’
তোলাবাজি ও বোমাবাজির মতো সমাজবিরোধী কার্যকলাপ দমন করাই এই আইনের প্রধান লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘থানার বাইরে দাঁড়িয়ে সস্তা ভাষণবাজির দিন শেষ। পুলিশ নিজের কাজ করছে, কেউ আইন হাতে তুলে নিলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’’ যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রুখতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর বার্তাও দিয়েছেন তিনি।
ইউসিসি (UCC) নিয়ে বড় আপডেট অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি কার্যকর করার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোল রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, ওই কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিধানসভায় পেশ করা হবে ইউসিসি বিল। তবে, এই বিলে আদিবাসী ও কুর্মি জনজাতিদের জন্য বিশেষ ছাড় বা সুরক্ষার বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
সীমান্ত সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ মুর্শিদাবাদের মতো সীমান্ত জেলাগুলোতে নারী পাচার ও মানব পাচার রোধে পুলিশকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে সবরকম তৎপরতা বজায় রাখার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর পদক্ষেপ মূলত সেই ভাবমূর্তি সংশোধন এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস। সোমবার থেকে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর এখন সকলের।