পরিকল্পনাহীনভাবে গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়! চরম ক্ষোভ প্রকাশ রাজ্যপাল আর এন রবির

রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এবং সাম্প্রতিক অতীতে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মান নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ্যপাল তথা আচার্য আর এন রবি। শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি রাজ্যের প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
রাজ্যপালের অভিযোগ: বৈঠক শেষে রাজ্যপালের মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্যপালের অভিযোগ, ‘‘গত ১০-১২ বছরে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা লক্ষ্য ছাড়াই একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কেবল বাহ্যিক জৌলুস বাড়াতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে সরকার।’’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। এছাড়া আর্থিক সংকট, পর্যাপ্ত ছাত্রভর্তির অভাব, স্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর তীব্র শূন্যপদ এবং দুর্বল পরিকাঠামো— এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে ধুঁকছে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।
উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনা: গতকালকের এই বৈঠকে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক অবস্থা, একাডেমিক স্ট্যাটাস এবং প্রশাসনিক সমস্যার কথা মন দিয়ে শোনেন আচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যরা তাঁদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের দৈন্যদশা ও পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। রাজ্যপালকে তাঁরা জানান, নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় ও আর্থিক অনুদান সময়মতো না পৌঁছানোয় পড়াশোনার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: যদিও বৈঠকের পর রাজ্যপাল সংবাদমাধ্যমের সামনে সরাসরি কোনো বিবৃতি দেননি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, উচ্চশিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে তিনি কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজ্যপাল উপাচার্যদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি দ্রুত উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে এই সংকট সমাধানের পথ খুঁজবেন। প্রয়োজনে তিনি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করবেন বলেও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই জরুরি বৈঠকে আয়োজক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় তা নিয়ে শিক্ষামহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।