অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ, মালদায় সীমান্ত ঘেঁষে তৈরি হতে চলেছে নতুন থানা ও আউটপোস্ট

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে এবং সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিল মালদা জেলা পুলিশ। স্পর্শকাতর এই সীমান্ত এলাকায় অপরাধ দমন এবং দ্রুত পুলিশি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের কাছে তিনটি নতুন থানা ও দু’টি পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
কেন এই পরিকল্পনা? বর্তমানে বৈষ্ণবনগর, কালিয়াচক ও হবিবপুর থানার অধীনে থাকা বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলো মূল থানা থেকে অনেকটাই দূরে। ফলে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা অন্যান্য অপরাধের খবর পেলেও পুলিশি সাহায্য পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও প্রশাসনিক সাহায্যের জন্য অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়। এই অসুবিধা দূর করতেই কুম্ভীরা, গোলাপগঞ্জ এবং বুলবুলচণ্ডী ফাঁড়িগুলোকে পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হবিবপুরের জাজইল এবং বামনগোলার জগদ্দলায় নতুন দু’টি আউটপোস্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মত মালদা সীমান্ত দীর্ঘকাল ধরেই অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু পাচার, মাদক এবং জাল নোটের মতো অপরাধের কারণে স্পর্শকাতর। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নদীপথ বা কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেখানে নজরদারি চালানো চ্যালেঞ্জিং। বিজেপির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী জোয়েল মুর্মুর মতে, “সীমান্ত রক্ষায় বিএসএফের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। নতুন এই থানা ও আউটপোস্টগুলি তৈরি হলে সীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানো সম্ভব হবে।”
কী কী সুবিধা মিলবে? পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, নতুন থানাগুলি চালু হলে পুলিশি প্রতিক্রিয়ার সময় (Response Time) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। প্রতিটি থানার জন্য ২০-২৫ জন পুলিশ অফিসার ও ৫০ জন কর্মীর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে:
দ্রুত পরিষেবা: সাধারণ মানুষকে অভিযোগ জানাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে না।
সমন্বিত নজরদারি: বিএসএফ ও জেলা পুলিশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান আরও কার্যকর হবে।
অপরাধ দমন: মানবপাচার, মাদক ও চোরাচালান রুখতে পুলিশের টহলদারি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
পরিসংখ্যানের নিরিখে বাস্তবতা দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে বিএসএফ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ৫৩ জন দালাল ও চোরাচালান মামলায় প্রায় ৭০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মালদা সীমান্তে বেশ কিছু অনুপ্রবেশের চেষ্টাও নজরে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন পুলিশি অবকাঠামো সীমান্তবাসীর মনে নিরাপত্তার সঞ্চার করবে বলেই মনে করছে প্রশাসন।
রাজ্য সরকারের সিলমোহরের অপেক্ষায় থাকা এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মালদা সীমান্তের নিরাপত্তায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।