বিশ্বকাপে টিকিটের বাজারে মন্দা! মেসির আর্জেন্টিনার ওপরই কি এখন ভরসা আয়োজকদের?

ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই সাধারণত টিকিটের জন্য হাহাকার। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের চিত্রটা এবার একদম ভিন্ন। প্রতিযোগিতা যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই অপ্রত্যাশিতভাবে কমছে বহু ম্যাচের টিকিটের দাম। ফুটবল প্রেমীদের একাংশের মতে, জনপ্রিয় দলের বিদায় এবং একাধিক তারকা ফুটবলারের ছিটকে যাওয়াই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
কেন টিকিটের দাম কমছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকিটের বাজারের এই মন্দার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে:
আয়োজক দেশের বিদায়: যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় স্থানীয় সমর্থকদের আগ্রহ ও চাহিদা ব্যাপক হারে কমেছে। আয়োজক দল থাকলে যে উন্মাদনা তৈরি হতো, তা এখন আর দেখা যাচ্ছে না।
তারকাদের অনুপস্থিতি: ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল, নেইমার-ভিনিসিয়ুসদের ব্রাজিল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় মাঠমুখী হওয়ার উৎসাহ হারিয়েছেন নিরপেক্ষ দর্শকরা। তারকাখচিত লড়াইয়ের অভাবেই টিকিটের দাম তলানিতে ঠেকেছে।
হাই-প্রোফাইল ম্যাচের অভাব: স্পেন-বেলজিয়াম বা ফ্রান্স-মরক্কোর মতো ম্যাচেও প্রত্যাশিত চাহিদার অভাব দেখা যাচ্ছে। তারকা খেলোয়াড় ও বড় নামের দলের অভাবে গ্যালারিতে দর্শক টানতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
মেসির ওপর ভরসা:
বর্তমানে গোটা টুর্নামেন্টের গ্যালারির উন্মাদনা ধরে রাখার জন্য এখন সব নজর লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার দিকে। অনেকেরই ধারণা, মেসি যতদিন টুর্নামেন্টে টিকে থাকবেন, ততদিনই টিকিটের চাহিদা এবং গ্যালারির জৌলুস বজায় থাকবে।
বাজারের নতুন সমীকরণ:
২০২৬ বিশ্বকাপ স্পষ্ট করে দিল যে, শুধুমাত্র নকআউটে পৌঁছানোই টিকিটের চাহিদা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট নয়। মাঠে কোন দল খেলছে এবং কোন তারকা ফুটবলার উপস্থিত আছেন—এই দুটি বিষয়ই টিকিটের বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখন দেখার বিষয়, মেসির জাদু কি বিশ্বকাপের শেষ লগ্ন পর্যন্ত টিকিটের বাজারকে আবার চাঙ্গা করে তুলতে পারে কি না।