বারুইপুর এনকাউন্টার কাণ্ডে বড় মোড়! তদন্তভার হাতে নিল সিআইডি, খতিয়ে দেখা হবে ঘটনার প্রতিটি দিক

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়া হলো। এই চাঞ্চল্যকর মৃত্যুর ঘটনাটির প্রতিটি দিক এবার সিআইডি খতিয়ে দেখবে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
পুলিশের দাবি, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে সূর্যপুরের সেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ, যেখানে নাবালিকার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল। ‘ক্রাইম সিন রি-কনস্ট্রাকশন’ বা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার সময় সিট (SIT) সদস্য রনি সরকারের রিভলবার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। শুধু তাই নয়, পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও চালায় সে। এরপর আত্মরক্ষার্থে অন্য পুলিশকর্মী অর্ঘ্য মন্ডল পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কেন সিআইডি তদন্ত?
পুলিশের দাবি অনুযায়ী পুরো ঘটনাটি ঘটলেও, এই এনকাউন্টার নিয়ে জনমানসে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্য প্রশাসন তদন্তভার সিআইডির হাতে ন্যস্ত করেছে। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন থেকে শুরু করে ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের বয়ান রেকর্ড করার কাজ শুরু করবে।
প্রভাসের ভূমিকা ও চাঞ্চল্যকর দাবি:
উল্লেখ্য, নিখোঁজ নাবালিকাকে খুঁজে পাওয়ার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছিল প্রভাসের নাম। সিসিটিভি ফুটেজেও নাবালিকার সঙ্গে তাকে দেখা গিয়েছিল। পুলিশের জেরায় প্রভাস দাবি করেছিল, নাবালিকাকে আনন্দ সরদারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাকে ১০ হাজার টাকার লোভ দেখানো হয়েছিল। নির্যাতনের সময় সে উপস্থিত ছিল না বলেও দাবি করেছিল সে। এই মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী বা অভিযুক্ত প্রভাসের হঠাৎ মৃত্যুতে তদন্তের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন বড় প্রশ্ন।