‘মিছিল করার অধিকার আছে, কিন্তু সীমারেখা কোথায়?’ রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে বিস্ফোরক স্নেহাশিস চক্রবর্তী

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচি পালন নিয়ে ফের একবার সরব হলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব স্নেহাশিস চক্রবর্তী। গণতান্ত্রিক অধিকার এবং তার প্রয়োগের সীমারেখা নিয়ে তিনি যে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন, তা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। স্নেহাশিসের মতে, মিছিল করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সচেতনতা ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্নেহাশিস চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাদের সময়েও বিভিন্ন সময় বিরোধী দলকে মিছিল করতে দেওয়া হতো। গণতন্ত্রে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর শোনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং আমরা কখনোই তা দমন করিনি। কিন্তু এখন যারা মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মসূচি করছেন, তারা কি সত্যিই বোঝেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নূন্যতম সীমা কোনটা?” তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিরোধীদের বর্তমান কর্মসূচিগুলোতে যে ধরনের ভাষা বা ভঙ্গি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আদতে জনমানসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না, সে বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, “নতুন সরকারকে এই রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পশ্চিমবঙ্গে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে যে গণতান্ত্রিক সৌজন্য ও পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে তা যেন এক সংকটের মুখে। বিরোধী দলগুলোকে যেমন দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনই প্রশাসনকেও গণতন্ত্র রক্ষার বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে।” স্নেহাশিসের অভিযোগ, বর্তমানে রাজনৈতিক প্রতিবাদের নামে যে ধরনের উস্কানিমূলক কার্যকলাপ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তা সুস্থ রাজনীতির পরিপন্থী।

স্নেহাশিস চক্রবর্তী যখন এই মন্তব্য করছেন, তখন রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের আন্দোলন তুঙ্গে। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকবেই, কিন্তু তাকে কোনোভাবেই অশান্তির রূপ দেওয়া উচিত নয়। তার মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির যে সংস্কৃতি আগে ছিল, সেখানে আক্রমণের চেয়ে আলোচনার পরিসর বেশি থাকত। এখন সেই আলোচনার জায়গাটি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। এটি রাজ্যের আগামী প্রজন্মের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

নতুন সরকারের কাছে তার প্রত্যাশা, তারা যেন এমন পরিবেশ তৈরি করে যেখানে বিরোধীরা তাদের কথা বলতে পারবে, কিন্তু কোনোভাবেই জনজীবন বিপর্যস্ত হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের আরও বেশি শিক্ষিত ও সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র রাস্তায় নেমে চিৎকার করলেই রাজনৈতিক দাবি পূরণ হয় না। দাবির পেছনে যৌক্তিকতা এবং আলোচনার সদিচ্ছা থাকা জরুরি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, স্নেহাশিস চক্রবর্তীর এই বক্তব্য তৃণমূল স্তরে দলীয় কর্মীদের মধ্যেও এক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা। বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক পরিসরে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি, নিজের দলের কর্মীদের সংযত থাকার বার্তাও হয়তো লুকিয়ে আছে এই বক্তব্যের গভীরে। এখন দেখার বিষয়, তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী দিনে রাজ্য সরকার এবং বিরোধী দলগুলো নিজেদের অবস্থানে পরিবর্তন আনে কি না।