মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল! রাজনাথ-নির্মলা বাদ? মোদীর নতুন টিম নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় এক ঐতিহাসিক এবং বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এখন চূড়ান্ত। সরকারের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অধিবেশন শুরুর আগেই নতুন মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁদের সংসদে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

মন্ত্রিসভার এই আসন্ন রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনে তরুণ প্রজন্মের নেতাদের আরও বেশি করে সুযোগ করে দেওয়া। বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চাইছেন, মন্ত্রিসভার বয়সের গড় কমিয়ে পঞ্চাশের আশেপাশে থাকা নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে। বলাই বাহুল্য, এই নীতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কিন্তু মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটিই মূলমন্ত্র হতে চলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা ধরে রাখা বিজেপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কেন্দ্রের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সাফল্য তুলে ধরতে একটি উদ্যমী ও শক্তিশালী কেন্দ্রীয় টিম তৈরি করা লক্ষ্য।

রদবদলের তালিকায় বেশ কিছু হেভিওয়েট মন্ত্রীর নাম উঠে আসছে। যার মধ্যে অন্যতম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। ২০১৪ সাল থেকে টানা মন্ত্রিসভায় থাকা রাজনাথের নাম বাদ পড়ার নেপথ্যে বয়সের পাশাপাশি একটি বড় কারণ ‘পরিবারতন্ত্রের’ অভিযোগ এড়ানো। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তাঁর দুই ছেলের সক্রিয়তা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে দক্ষিণের সাংগঠনিক কাজে ব্যবহারের জল্পনা চলছে। তাঁর জায়গায় বর্তমান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে পারেন। এছাড়া, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীও বয়সের কারণে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিতে পারেন। তাঁর জায়গায় রিজার্ভ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর তথা বর্তমান প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শক্তিকান্ত দাসকে অর্থ বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

মন্ত্রিসভার এই রদবদল কেবল বয়সের সমীকরণ নয়, বরং রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর ভিত্তি করেও হচ্ছে। বিজেপির নতুন শরিক দলগুলো থেকে মন্ত্রী নিয়োগের দাবি জোরালো হয়েছে। রাঘব চাড্ডা সহ বিজেপিতে যোগ দেওয়া ১০ প্রাক্তন আপ সাংসদ এবং শিন্ডে শিবিরের আরও এক নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি তৃণমূল থেকে আসা দলত্যাগী সাংসদদেরও এই তালিকায় দেখা যেতে পারে।

এদিকে, নিট কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব বিরোধী দলগুলি। তবে বিজেপি সূত্রে খবর, এই কারণে তাঁকে এখনই সরানোর পরিকল্পনা নেই দলের। বরং ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝির কাজে সন্তুষ্ট না থাকায়, শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে সরিয়ে ওই রাজ্যের দায়িত্ব ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাঁধে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। সবমিলিয়ে, মোদী মন্ত্রিসভার এই ব্যাপক পরিবর্তন ভারতীয় রাজনীতির পরবর্তী প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলে দিতে পারে।