তৃণমূলের দখল কার হাতে? আজ নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেই কি শেষ মমতার জমানা?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে এখন চরম অস্থিরতা। দলের নেতৃত্বের রাশ কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে। রাজ্যে দল দুই ভাগে বিভক্ত, আর দিল্লিতেও সাংসদদের বড় অংশ মমতাকে ছেড়ে নতুন দল ‘এনসিপিআই’-তে নাম লিখিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের রাশ আদতে কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করতে আজ নির্বাচন কমিশনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে। মমতার সামনে এই মুহূর্তে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ পাহাড় প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১. ২১ জুলাইয়ের অগ্নিপরীক্ষা: শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান সফল করা মমতার সামনে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ এই সভার অনুমতি দেয়নি। কালীঘাটপন্থীদের পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থীরাও সভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। এমনকি কংগ্রেসও একই দিনে বড় অনুষ্ঠানের তোড়জোড় করছে। এই টানাপোড়েনে নিজের জনসভায় লোক বাড়ানো মমতার জন্য এখন এক কঠিন লড়াই।

২. নির্বাচন কমিশনের রায়: নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের প্রতীক এবং দলীয় তহবিলের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে। আজ, ৬ জুলাই বিকেল ৫:৩০ মিনিটের মধ্যে দুই পক্ষকে তাদের লিখিত জবাব ও নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপরই শুনানি হবে। কমিশনের রায় তৃণমূলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে তা চূড়ান্ত করবে।

৩. অভিষেকের নেতৃত্বের ভারসাম্য: তৃণমূলের একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক দল ছাড়ছেন এবং সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি তুলছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও অভিষেকের মাথার ওপর থেকে হাত সরাতে নারাজ। একদিকে চরম ক্ষোভ, অন্যদিকে অভিষেকের ওপর আস্থা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা মমতার জন্য বড় পরীক্ষা।

৪. সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ: বিদ্রোহী বিধায়ক-সাংসদদের দাপটে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, অধিকাংশ নিচুতলার নেতা-কর্মী এখনও মমতার ওপর আস্থা রাখলেও, সরকারি পক্ষের প্রবল চাপ তাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের দখল অটুট রাখা মমতার সামনে এক বিরাট কঠিন কাজ।

৫. জনসমর্থন পুনর্গঠন: বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকে দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ মমতা সরকার। সাংসদ-বিধায়করাও মমতা ও অভিষেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের জনমত মমতার সপক্ষে কতটা রয়েছে, তা ২১ জুলাইয়ের সভার সফলতার ওপর নির্ভর করছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার জমানায় এটিই সবথেকে বড় সংকট। আজকের শুনানি এবং ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচির সাফল্যই ঠিক করে দেবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অভিমুখ।