‘স্বামী বাইরে গিয়েছেন’—এই বলেই চলল ৪৫ দিন! বাথরুমের নিচে মিলল নিখোঁজ সুরেন্দ্রর কঙ্কাল

আগ্রার তাজমহলের শহরে যেন এক অতিপ্রাকৃত চিত্রনাট্য! যে বাড়িতে সুরেন্দ্র শর্মার স্ত্রী রুবি গত ৪৫ দিন ধরে দিব্যি স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিলেন, সেই বাড়ির বাথরুমের নিচ থেকেই উদ্ধার হলো সুরেন্দ্রর দেহ। দিনের পর দিন প্রতিবেশীদের কাছে স্ত্রীর সেই নির্লিপ্ত উত্তর—‘স্বামী বাইরে গেছে, শিগগিরিই ফিরবে।’ কিন্তু এই ঠাণ্ডা মাথার মিথ্যার আড়ালে যে এক ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড লুকিয়ে ছিল, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে হাড়হিম করা তথ্য। গত ১৮ মে নিখোঁজ হওয়ার পর ২৬ মে রুবি ও তাঁর দেওর অনিল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্ত চলাকালীন রুবি পুলিশের সঙ্গে কান্নাকাটি ও স্বামীকে খোঁজার অভিনয় করে গিয়েছেন। তবে রুবির বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করতে শুরু করেন। পুলিশি জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে রুবি স্বীকার করেন, তিনিই খুন করেছেন স্বামীকে।
তদন্তকারীদের দাবি, হত্যার নীল নকশা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ঘটনার দিন সুরেন্দ্রর খাবারে ১৫-২০টি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন রুবি। স্বামী গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার পর তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর প্রমাণ লোপাটের জন্য বাড়ির বাইরে না গিয়ে তিনি বেছে নেন বাথরুমের নিচ। বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে সেখানে দেহটি পুঁতে রেখেছিলেন তিনি। দিনের পর দিন সেই বাড়ির বাথরুম ব্যবহার করেছেন, আর বাইরের লোকেদের কাছে স্বামী বাইরে গেছেন বলে প্রচার চালিয়েছেন। খুনের কারণ হিসেবে রুবি জানিয়েছেন, ভরতপুরে মত্ত অবস্থায় ঝামেলার জেরে আইনি ঝামেলায় পড়ার ভয় পেয়েছিলেন তিনি। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত রুবির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।