করাচিতে ৮৫০ কোটির দুর্নীতি! বাস প্রকল্পে কেলেঙ্কারির দায়ে শ্রীঘরে শীর্ষ আমলা

পাকিস্তানে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির শিকড় যে কত গভীরে, তা আবারও প্রকাশ্যে এল। করাচি মোবিলিটি প্রজেক্টের (KMP) অন্তর্গত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (BRT) ইয়েলো লাইন প্রকল্পে ৮৫০ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে গ্রেড-১৯ এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তথা প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টর জামির আব্বাসিকে।
কীভাবে ফাঁস হলো দুর্নীতি? মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন, অনুসন্ধান ও প্রয়োগকারী দলের (CMIE&ITD) একটি তদন্ত রিপোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক নয়ছয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। সিন্ধ প্রদেশের দুর্নীতি দমন বিভাগ (ACE) তদন্তে নেমে দেখেছে, কোনও প্রকার ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়াই লক্ষ লক্ষ টাকার পেমেন্ট করা হয়েছে, যা সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং চরম ঝুঁকির শামিল।
আদালতের নির্দেশ: পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা জামির আব্বাসিকে আদালতে পেশ করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পর, জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত তাকে জেলেই থাকতে হবে। বিচারক নির্দেশ দিয়েছেন, পরবর্তী শুনানিতে তাকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে হাজির করতে হবে।
কী কী অভিযোগ রয়েছে? অভিযুক্ত জামির আব্বাসি এবং তৎকালীন প্রকিউরমেন্ট ডিরেক্টর ঝামান দাসসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪০৯ (সরকারি কর্মীর বিশ্বাসভঙ্গ), এবং ৪৬৭/৪৬৮ (জালিয়াতি) সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। পাকিস্তান সরকারের এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত বড় মাপের আমলাদের এভাবে গ্রেফতারিতে করাচির প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তের জাল আরও কতদূর বিস্তৃত হয় এবং এর পেছনে আরও কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।