‘এক শটে শেষ করতে পারতাম!’ খামেনির শেষকৃত্য নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়

প্রয়াত ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, খামেনির শেষকৃত্যে উপস্থিত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে চাইলে তিনি “এক শটেই” খতম করে দিতে পারতেন। এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরান তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।
ট্রাম্প ঠিক কী বলেছিলেন? সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, খামেনির শেষকৃত্যে হাজার হাজার মানুষের ভিড় দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মানুষ হয়তো খামেনিকে ঘৃণা করে এবং এই কান্না লোক দেখানো। ট্রাম্পের দাবি, ওই অনুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এক জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন, চাইলে তিনি তাদের “এক শটে” শেষ করে দিতে পারতেন। তবে আলোচনার রাস্তা খোলা রাখার স্বার্থেই তিনি সেই পথে যাননি বলে দাবি করেছেন।
ইরানের পাল্টা জবাব: ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই আর্মেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা লিখেছে, “যাঁদের না আছে নিজস্ব সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান—তাঁরা এই শোকের গভীরতা বুঝবে না।” ট্রাম্প ও আমেরিকাকে নিশানা করে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “মানুষকে মেরে ফেলা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। আপনারা খামেনিকে হত্যা করেছেন ঠিকই, কিন্তু আসলে একটি আতরের শিশি ভেঙে দিয়েছেন, যার সুগন্ধ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।”
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে সপ্তাহব্যাপী শোকপালন চলছে। তেহরান, কোম, নাজাফ এবং কারবালা ঘুরে ৯ জুলাই মাশহাদে তাকে সমাধিস্থ করার কথা রয়েছে। খামেনির মৃত্যুতে এই বিশাল জনসমাগমকে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে।
ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। একদিকে মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের এই হুঙ্কার, অন্যদিকে ইরানের আবেগঘন জাতীয় শোক—এই দুইয়ের সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।