মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই বিপদ! ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ব্যারিয়ার তুলে দেওয়ায় বাড়ছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পুলিশি ব্যারিয়ার সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে মালদা জেলায় পথদুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত ১০ দিনে শুধু পুরাতন মালদার নারায়ণপুর এলাকাতেই অন্তত ১০টি বড় দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে পথচারীরা। এতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৪ জন।

কেন বাড়ছে ঝুঁকি? প্রশাসনিক নির্দেশের পর বৈষ্ণবনগর থেকে গাজোল পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বেশিরভাগ ব্যারিয়ার সরিয়ে ফেলা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে ব্যারিয়ার থাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে থাকত। এখন তা না থাকায় চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন, যার ফলেই ঘটছে একের পর এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

ঘটনার খতিয়ান:

  • গত ৯ জুন থেকে ২ জুলাই—এই অল্প সময়ের ব্যবধানে লরি উল্টে যাওয়া, চারচাকার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু, সিভিক ভলান্টিয়ার আহত হওয়া এবং টোটো-মোটরবাইকের সংঘর্ষের মতো ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

  • সর্বশেষ শুক্রবারেও একটি ডাম্পারের ধাক্কায় পাঁচটি ছোট গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • গত ৩০ জুন মিশন রোডের কাছে এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু গোটা এলাকাকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য: এ বিষয়ে জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মানা পুলিশের বাধ্যতামূলক। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী বা সিভিক ভলান্টিয়ারের অভাব থাকায় সবসময় নজরদারি চালানো কঠিন। তবে দুর্ঘটনার প্রবণতা দেখে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।

চরম সংকটে সাধারণ মানুষ: স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণের ভয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, অন্তত দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুনরায় ব্যারিয়ার বসানো হোক। জাতীয় সড়কে নির্বিঘ্ন চলাচলের চেয়ে মানুষের জীবনের দাম যে বেশি, তা এই দুর্ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার এই সিদ্ধান্ত কি আদৌ জনস্বার্থে কার্যকর হচ্ছে? না কি এর জন্য কোনো বিকল্প ট্রাফিক পরিকল্পনা জরুরি?