চলন্ত ই-রিকশা হঠাৎ বন্ধ! চীনা অ্যাপের রিমোট কন্ট্রোলে কি বিপদে ইভি মালিকরা?

দিল্লি ও উজ্জয়িনের রাস্তায় হঠাৎ ই-রিকশা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ইভি মালিকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল অ্যাপ বা ব্লুটুথের মাধ্যমে ব্যাটারি সিস্টেম নিষ্ক্রিয় করে গাড়ি থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কি চীনের তৈরি ‘BAT-BMS’ অ্যাপের কোনো ভূমিকা রয়েছে? ইভি মালিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিতর্কিত প্রযুক্তি নিয়ে কিছু জরুরি তথ্য জেনে রাখা প্রয়োজন।
কী এই BAT-BMS অ্যাপ? BAT-BMS হলো চীনের শেনজেন গ্রেনার্জি টেকনোলজি সংস্থার তৈরি একটি ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। মূলত গাড়ির ব্যাটারির চার্জ, তাপমাত্রা, ভোল্টেজ এবং স্বাস্থ্যের অবস্থা মনিটর করার জন্যই এটি ব্যবহৃত হয়। প্রযুক্তিবিদদের মতে, সব বৈদ্যুতিক গাড়িতেই রিমোট কন্ট্রোল ফিচার থাকে না। শুধুমাত্র যে সমস্ত উন্নত ইভিতে ক্লাউড-সংযুক্ত সিস্টেম রয়েছে, সেখানেই দূর থেকে সফটওয়্যার আপডেট বা কিছু সীমিত সেটিংস নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকে। তবে BAT-BMS যুক্ত গাড়ি দূর থেকে পুরোপুরি বন্ধ করা যায়—এমন কোনো জোরালো প্রযুক্তিগত প্রমাণ এখনও মেলেনি।
প্রতারক চক্রের নুতন ফন্দি: তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে বিকল ই-রিকশা চালকদের টার্গেট করছে। গাড়ি মাঝরাস্তায় বন্ধ হয়ে গেলে চালকদের ভয় দেখিয়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে এই চক্রটি। মূলত প্রযুক্তির নাম ভাঙিয়ে সাধারণ চালকদের বোকা বানিয়ে এই প্রতারণা চালানো হচ্ছে।
ইভি মালিকদের জন্য সতর্কবার্তা: নিরাপদ থাকতে ও প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
অফিসিয়াল অ্যাপ: শুধুমাত্র নির্মাতা সংস্থার অনুমোদিত অ্যাপ বা তাদের নির্দেশিত সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
অজানা অ্যাপ এড়িয়ে চলুন: থার্ড পার্টি বা সন্দেহজনক কোনো অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাটারি সিস্টেমের সাথে সংযোগ করবেন না।
সুরক্ষিত সেটিংস: স্মার্টফোনের ব্লুটুথ বা অ্যাপের অ্যাক্সেস সেটিংস সবসময় সুরক্ষিত রাখুন। অপরিচিত কাউকে নিজের গাড়ির সিস্টেম চেক করতে দেবেন না।
সতর্ক থাকুন: রাস্তার মাঝখানে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি সাহায্যের নামে সিস্টেম হ্যাক করার দাবি করলে সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন।
প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করলেও তার অপব্যবহার অনেক সময় বড় বিপদ ডেকে আনে। তাই ই-রিকশা বা যেকোনো বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন সময়ের দাবি।