স্কুলের রান্নাঘরেই ম্যারিনেট করা মাংস! মিড ডে মিলের খাবার নিয়ে শান্তিপুরের স্কুলে তুলকালাম কাণ্ড

ভরদুপুরে নদিয়ার শান্তিপুরের নতুনপাড়া জনকল্যাণ বুনিয়াদি শিক্ষালয়ে মিড ডে মিলের মাংস নিয়ে ছড়িয়ে পড়ল তীব্র চাঞ্চল্য। শিশুদের জন্য বরাদ্দ মাংস রান্নাঘরে ম্যারিনেট করে রাখা থাকাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের জন্য আসা ওই মাংস শিক্ষকদের বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানের জন্য সরিয়ে রাখা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। অভিভাবকদের দাবি, মিড ডে মিলের শিশুদের জন্য আসা মাংস এবং অন্যান্য খাবার নিয়মিত চুরি করা হয়। দীর্ঘদিনের এই ক্ষোভ এদিন মাংসের গামলা দেখেই কার্যত বিস্ফোরণ ঘটায়। অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরেই মিড ডে মিলের কর্মীরা যেমন খাবার বাড়ি নিয়ে যায়, তেমনই স্কুলের মাস্টারমশাইরাও ছাত্রছাত্রীদের বরাদ্দ করা খাবার দিয়ে ব্যক্তিগত উৎসব পালন করেন। এর ফলে পড়ুয়ারা পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম মিড ডে মিলের কর্মীরা খাবার চুরি করছে। আর এখন মাস্টারমশাইরা স্কুলের খাবার স্পেশালভাবে রান্না করে ভোজ সারছেন। সবটাই ছাত্রছাত্রীদের বঞ্চিত করে।” পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় শান্তিপুর থানায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষিকা অনামিকা সাহা জানিয়েছেন, “স্কুলে বিবাহ বার্ষিকী পালন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই মাংস বাজার থেকে আলাদাভাবে কিনে আনা হয়েছে। পড়ুয়াদের মাংস রান্নার সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।” উল্টে তিনি মিড ডে মিল কর্মীদের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, “প্রতিদিন মিড ডে মিলের কর্মীরাই বাচ্চাদের খাবার চুরি করে। আমরা কোনও খাবার বাড়ি নিয়ে যাই না বা পড়ুয়াদের খাবার খাই না।”
মিড ডে মিল কর্মী এবং শিক্ষকদের মধ্যে দায় ঠেলাঠেলির এই খেলায় বর্তমানে প্রশ্ন উঠছে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের পুষ্টি নিয়ে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, বিদ্যালয়ের রান্নাঘরে ব্যক্তিগত উৎসবের আয়োজন করাটাই এই বিতর্কের মূলে রয়েছে। শিক্ষক এবং কর্মী—উভয়ের বিরুদ্ধেই পাল্টাপাল্টি চুরির অভিযোগে স্কুল চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।