খামেনেইয়ের শেষযাত্রায় কি দেখা যাবে পুত্র মুজতবাকে? নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা তেহরানে তুঙ্গে জল্পনা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। এই শোকাবহ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে এই অন্ত্যেষ্টিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক রহস্যময় জল্পনা—দেশের পরবর্তী সম্ভাব্য কাণ্ডারি ও খামেনেইয়ের পুত্র মুজতবা খামেনেই কি পিতার শেষযাত্রায় জনসমক্ষে আসবেন? ভারতের জন্য সুপ্রিম লিডারের প্রতিনিধি আয়াতোল্লা হাকিম এলাহি জানিয়েছেন, কঠোর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাঁর উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

আয়াতোল্লা হাকিম এলাহি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মুজতবা খামেনেই ব্যক্তিগতভাবে শেষকৃত্যে অংশ নিতে এবং শোকাতুর জনগণের সঙ্গে দেখা করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাঁকে জনসমক্ষে আসার ব্যাপারে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এলাহি বলেন, “নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই মুহূর্তে মুজতবা খামেনেইয়ের নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, তিনি জনসমক্ষে আসবেন না।” ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিই এই কঠোর সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ।

আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ইরান এক গভীর আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এলাহির কথায়, “ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁরা মনে করছেন, দেশের আত্মা বা চালিকাশক্তিকে তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন।” আগামী ৭ জুলাই পবিত্র শহর কোমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী এই শোক ও অন্ত্যেষ্টি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সারা দেশ থেকে দলে দলে মানুষ তেহরানে জড়ো হচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় এই বিশাল আয়োজনে অংশ নিতে পারেন দেশি-বিদেশি বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে তেহরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের নাশকতার আশঙ্কা এড়াতে প্রশাসন সদা সতর্ক। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিদ্যমান বৈরী সম্পর্ক এই আয়োজনকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। তবে এলাহি জানিয়েছেন, এই সংকটময় মুহূর্তেও ইরান তার অবস্থানে অনড়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইরান তার নীতি রক্ষায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। শোকের ছায়াচ্ছন্ন ইরান এখন এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, যেখানে মুজতবা খামেনেইয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তার বিষয়টিই রাষ্ট্রের কাছে এখন অগ্রাধিকার।