“পেটে অন্ন জোগানো কি নাগরিকের অধিকার নয়?” হকার উচ্ছেদ নিয়ে রেলকে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের

“পেটে অন্ন জোগানো কি নাগরিকের অধিকারের মধ্যে পড়ে না?”—মধ্যমগ্রাম স্টেশনে হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একদিকে যখন রেল কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার দোহাই দিয়ে ফুটপাথ ও রেল স্টেশন দখলের যুক্তি দেখাচ্ছে, অন্যদিকে হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলল, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিয়ে।
মধ্যমগ্রাম স্টেশনে বড় স্বস্তি: মধ্যমগ্রাম স্টেশনের ১৩ জন হকার রেলের উচ্ছেদ নোটিশের বিরুদ্ধে আদালতে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন। শুনানি চলাকালীন রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেন, রেলের জমিতে বেআইনি দখলদারি সরাতে কোনো পূর্ব নোটিশের প্রয়োজন নেই। তবে ডিভিশন বেঞ্চ এই যুক্তি সম্পূর্ণ গ্রহণ করেনি। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত মধ্যমগ্রাম স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও রেলের জমিতে বসে থাকা মোট ৪৩৩ জন হকারকে রক্ষাকবচ দেওয়া হলো। পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না।
শিয়ালদহ ফ্লাই ওভার ও সুকান্ত সেতুতেও স্বস্তি: এদিকে শিয়ালদহ ফ্লাই ওভার ও সুকান্ত সেতুর হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে হওয়া মামলায় আরেকটি ডিভিশন বেঞ্চ ৯ জুলাই পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, হকারদের দেওয়া উচ্ছেদ নোটিশটি কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ পুরনিগমের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে। পুরনিগমের তরফে মৌখিকভাবে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
কেন এই পরিস্থিতি? সম্প্রতি বিভিন্ন রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় রুজিরুটি হারানোর ভয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল হকারদের মধ্যে। মামলাকারীদের দাবি, লাইসেন্স বা পুনর্বাসনের বিষয়টি সুরাহা না করেই হঠাত উচ্ছেদ নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হকার উচ্ছেদ নিয়ে আদালতের এই সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে একটি মানবিক দিক উঠে এসেছে। একদিকে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা, অন্যদিকে রুজিরুটির অধিকার—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আদালতের এই স্থগিতাদেশে আপাতত কয়েক হাজার হকার পরিবারের মুখে হাসি ফুটল।