‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ বিতর্ক সুপ্রিম কোর্টে! ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে বড় সিদ্ধান্তের পথে দেশ?

স্ট্যান্ড-আপ কমেডি, পডকাস্ট কিংবা লাইভ-স্ট্রিমিং—ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অবাধে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আইনজীবী। সাম্প্রতিক ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলা (PIL) ভারতের ডিজিটাল কন্টেন্ট নীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কী এই বিতর্ক? স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান প্রানীত মোরের একটি লাইভ শো-তে হিমাংশু জাংরা নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, একজন নারীকে ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়ে তার বিনিময়ে যৌনমিলনের অধিকার অর্জন করা গেছে। এই অশালীন ও অপমানজনক মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নারী ও সম্মানের মতো বিষয়ে এই ধরনের মন্তব্য কীভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে এই পিটিশন।
পিটিশনে কী দাবি করা হয়েছে? আইনজীবী বিশাল তিওয়ারির দায়ের করা এই আবেদনে সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়েছে:
সমন্বিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা: সব ধরনের ডিজিটাল কন্টেন্টের ওপর নজরদারি রাখতে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা বা বডি তৈরি করা।
বিশেষজ্ঞ কমিটি: সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর ও অবমাননাকর বিষয়বস্তু তদন্তের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা।
অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ: সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম কীভাবে বিতর্কিত ও ঘৃণা উদ্রেককারী কন্টেন্টকে ভাইরাল করে, তার ওপর স্বচ্ছতা আনা।
আবেদনকারীর বক্তব্য: পিটিশনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, এই আইনি লড়াই কোনোভাবেই শৈল্পিক স্বাধীনতা বা হাস্যরসের বিরুদ্ধে নয়। বরং ডিজিটাল যুগে সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের যে সুরক্ষা পাওয়ার কথা, তা নিশ্চিত করাই এই মামলার মূল লক্ষ্য। কোনো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, বরং ডিজিটাল জগতে যে ধরনের বিষাক্ত কন্টেন্ট ছড়িয়ে পড়ছে, তার বিপরীতে একটি স্বচ্ছ জবাবদিহিতা ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশ। এই মামলার রায় ভারতের অনলাইন কন্টেন্ট সেন্সরশিপ ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।